ইসলামী ব্যাংকের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত বিতর্কিত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর বেপরোয়া হামলা চালিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ, জলকামান ব্যবহার এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত অর্ধশত গ্রাহক আহত হয়েছেন
সোমবার (১ জুন) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ হামলা চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে এবং বেপরোয়াভাবে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে।
পুলিশের লাঠিচার্জের আঘাতে অনেকের মাথা ফেটে রক্তাক্ত হন। আহত অনেক গ্রাহক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশি অভিযানের পর বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও কিছু সময় পর আবারো প্রধান কার্যালয়ের আশপাশে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই পুলিশ তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এস আলম গ্রুপের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। তার নিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকে পুনরায় অনিয়ম ও লুটপাটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণেই তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন।
এদিকে ঘটনার পর ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, কয়েকশ আন্দোলনকারী ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় অবরোধ করলে মতিঝিলের ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল এবং যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। তাদের বারবার সরে যেতে অনুরোধ করা হলেও তারা পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেডসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের এসি (পেট্রোল) মতিঝিলসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়া মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এ নিয়োগের পর থেকেই ব্যাংকের একাংশ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
গ্রাহকদের দাবি, বিতর্কিত ও রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে শীর্ষ পদে নিয়োগ দিলে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকটি নতুন করে আস্থার সঙ্কটে পড়তে পারে। তাই তারা নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।



