ভিসা বন্ড ও সিকিউরিটি ডিপোজিট : বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের অনুমতি বাংলাদেশ ব্যাংকের

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ সোমবার (১১ মে) এক সার্কুলারের মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ফাইল ছবি

বিদেশী দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ভিসা বন্ড এবং ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিটের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে বাংলাদেশী আবেদনকারীদের বিদেশগামী ভিসা প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ সোমবার (১১ মে) এক সার্কুলারের মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করে।

এর আগে প্রচলিত বিধানে মূলত ভিসা ফি প্রেরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় অনুমোদিত ডিলাররা এখন বিভিন্ন দেশে ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিট পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো আবেদনকারীদের পক্ষে সরাসরি দূতাবাস, হাইকমিশন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিদেশী কর্তৃপক্ষের কাছে অর্থ প্রেরণ করতে পারবে।

অনুমোদিত ডিলাররা আবেদনকারীর নামে আন্তর্জাতিক বা ভার্চুয়াল কার্ড ইস্যু করতে পারবে, যেখানে ভিসা বন্ড বা সিকিউরিটি ডিপোজিটের প্রয়োজনীয় অর্থ সংযোজন করা যাবে।

এছাড়া, ভ্রমণ কোটার আওতায় আগে থেকে ইস্যুকৃত আন্তর্জাতিক কার্ডেও শুধু ভিসা সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় অর্থ পুনরায় লোড করা যাবে।

সার্কুলার অনুযায়ী, যেসব অ্যাকাউন্ট বিদ্যমান বিধিবিধান প্রতিপালন করবে সেগুলোর মাধ্যমে এসব সুবিধা পাওয়া যাবে।

অনুমোদিত উৎসের মধ্যে রয়েছে- এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাব, রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাব এবং এসব হিসাবে রক্ষিত অর্থের বিপরীতে ইস্যুকৃত আন্তর্জাতিক কার্ড।

নিয়ন্ত্রক তদারকি নিশ্চিত করতে, কোনো লেনদেন সম্পন্নের আগে ব্যাংকগুলোকে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আবেদনকারীদের বৈধ পাসপোর্ট, দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদাপত্র বা ইনভয়েস, যেখানে অর্থের পরিমাণ, মুদ্রার ধরন ও ফেরতের শর্ত উল্লেখ থাকবে, ভিসা আবেদনসংক্রান্ত রেফারেন্স এবং অথরাইজড ডিলারের (এডি) চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

সার্কুলারে এসব জামানতের ফেরতযোগ্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এবং বিদেশী কর্তৃপক্ষ অর্থ ফেরত দেয়ার সাথে সাথে তা বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অর্থ যথাসময়ে দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার দায়িত্ব আবেদনকারী ও সহায়তাকারী ব্যাংক উভয়ের ওপর বর্তাবে।

এ ধরনের লেনদেনের জন্য ব্যাংকগুলোকে পৃথক নিবন্ধন, সংরক্ষণ এবং জামানত ছাড় ও ফেরত কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সব ধরনের লেনদেন নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে হবে এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ (এএমএল), সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (সিএফটি), কর সংক্রান্ত বিধান ও বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

সূত্র : বাসস