স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে আজকের বাংলাদেশ শুধু অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় নয়, মানবিকতার মঞ্চেও নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করছে। আর সেই পথচলায় কিছু মানুষ নীরবে, নিরলসভাবে লাল-সবুজের পতাকাকে তুলে ধরছেন বিশ্বদরবারে। তাদেরই একজন—কাজী রিয়াজ রহমান।
তিনি শুধু একজন উদ্যোক্তা নন, বরং স্বাধীনতার চেতনায় গড়ে ওঠা এক মানবিক নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি—যার প্রতিটি উদ্যোগে প্রতিফলিত হয় সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা।
তার হাত ধরে হাজারো পথশিশুর জীবনে এসেছে আশ্রয়, শিক্ষা ও নতুন স্বপ্ন। শুধু সহায়তা নয়, তিনি তৈরি করছেন সম্ভাবনা—যেখানে মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।
মানবতার কোনো দেশ নেই—এই বিশ্বাস থেকেই কাজী রিয়াজ রহমান ছুটে গেছেন বিশ্বের বিভিন্ন সংকটময় প্রান্তে। গাজার মানবিক বিপর্যয় কিংবা সুদানের দুর্দশা—প্রতিটি জায়গায় তিনি উপস্থিত ছিলেন এছাড়াও তুরস্কের ভয়াবহ ভূমিকম্পে সহায়তার হাত বাড়িয়ে। তার এই পদচারণা প্রমাণ করে বাংলাদেশ শুধু সাহায্য গ্রহণকারী দেশ নয়, বরং মানবিক সহায়তার এক গর্বিত দাতা।
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম দেশের ভেতরেও সমানভাবে বিস্তৃত এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও আশ্রয়কেন্দ্রে একসঙ্গে বসবাস করছে শতাধিক এতিম শিশু ও অবহেলিত প্রবীণ। নিশ্চিত করা হয়েছে তাদের খাবার, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং নিরাপদ জীবন।“মাস্তুল মেহমানখানা”—একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, যেখানে প্রতিদিন শত শত শ্রমজীবী মানুষের জন্য পরিবেশন করা হয় একবেলার খাবার।এ যেন মানবতার এক চলমান উৎসব।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে পুনর্বাসন পর্যন্ত—সবখানেই রয়েছে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সক্রিয় ভূমিকা।
শিক্ষা খাতে তাদের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের জন্য আশার আলো জ্বালাচ্ছে।স্কুল, মাদ্রাসা ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে আগামী দিনের স্বনির্ভর বাংলাদেশ।
স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি সহায়তা, অ্যাম্বুলেন্স, অক্সিজেন কিংবা দাফন কার্যক্রম—মানুষের জীবনের প্রতিটি সংকটে পাশে দাঁড়াচ্ছে এই সংগঠন।
আজ কাজী রিয়াজ রহমান শুধুই একজন সংগঠক নন—তিনি মানবতার এক প্রতীক, এক অনুপ্রেরণা।
২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসের গর্বের দিন। এই স্বাধীনতা শুধু ভূখণ্ডের নয়—এটি মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধেরও স্বাধীনতা। কাজী রিয়াজ রহমান সেই চেতনাকেই ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছেন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। তার পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—"স্বাধীনতা শুধু অর্জনের নয়, মানবতার মাধ্যমে তা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ারও এক অঙ্গীকার।"



