বান্দরবানের অপহৃত ঠিকাদারকে বিজিবির উদ্ধার, মুক্তিপণের টাকাসহ অপহরণকারী আটক

এ ছাড়াও অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং মুক্তিপণের নগদ ৩,০০,০০০/- (তিন লাখ) টাকা উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বান্দরবানের থানচিতে এক দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে স্থানীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ কর্তৃক অপহৃত বাঙালি ঠিকাদার মো: আমু হোসেনকে (৫০) উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

একইসাথে অপহৃত ঠিকাদারের কাছ থেকে নেয়া মুক্তিপণের নগদ ৩ লাখ টাকাসহ অপহরণকারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য মাংলে ম্রোকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) থানচি উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদার মো: আমু হোসেনকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। অপহরণের পর ভিকটিমের জীবননাশের আশঙ্কা এবং সন্ত্রাসী গ্রুপের সশস্ত্র উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে। ভিকটিমের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তার পরিবার অপহরণকারীদের দাবি করা মুক্তিপণের অর্থ প্রদান করতে বাধ্য হয়।

ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক ও বলিপাড়া জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো: ইয়াসির আরাফাত হোসেনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জোনের ভারপ্রাপ্ত এ্যাডজুটেন্ট সহকারী পরিচালক মো: জাকির হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবির একটি চৌকস আভিযানিক দল তাৎক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং অপহরণকারীদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করে।

ভিকটিমের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপহরণকারীদের শনাক্ত ও আটক, মুক্তিপণের অর্থ উদ্ধার এবং কোনো ধরনের পার্শ্বক্ষতি ছাড়াই পুরো অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করা- এই সকল বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে থানচি উপজেলার পাহাড়ি জনপদ বিদ্যামনিপাড়া এলাকায় গভীর রাতে অত্যন্ত কৌশলগত ও দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে বিজিবির পেশাদারিত্ব, ধৈর্য, দূরদর্শিতা ও তাৎক্ষণিক কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে অপহৃত ঠিকাদার মো: আমু হোসেনকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। একইসাথে অপহরণকারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের অন্যতম সদস্য মাংলে ম্রোকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।

এ ছাড়াও অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং মুক্তিপণের নগদ ৩,০০,০০০/- (তিন লাখ) টাকা উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আটক ব্যক্তিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অত্র এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। থানচি এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় আরো অনেকেই বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি, অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সাথে নিয়মিত সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছি সংস্থাটিদ।

আরো জানা যায়, সমগ্র এলাকা সকল সংস্থার সমন্বিত নজরদারিতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। খুব শিগগিরই সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। বান্দরবানের থানচি একটি পর্যটনবান্ধব এলাকা। এখানে কোনো প্রকার সন্ত্রসীকে প্রশ্রয় দেয়া বা কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। এ ব্যাপারে সর্বসাধারণের আন্তরিক সাহায্য নিয়ে বিজিবি সর্বদা দেশ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর কলেও জানানো হয়।