খেলাফত মজলিস মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, সীমান্তে বাংলাদেশ নাগরিকদেরকে গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ বারবার আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। সীমান্ত হত্যা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও ভারত আবারো তা শুরু করে বাংলাদেশকে নতুন করে ভয় দেখাতে চায়। পুশইন, মাদক চোরাচালানসহ অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভারত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। আমরা ভারতের এমন অপ্রতিবেশীসূলভ আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
তিনি বলেন, ‘ভারতকে অবিলম্বে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে এবং সকল হত্যাকাণ্ডের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। নিজ দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে। ভারতকে বাংলাদেশের সাথে আধিপত্যবাদ নয়, প্রতিবেশীসুলভ আচরণ ও সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানাই।’
শুক্রবার (১৫ মে) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ভারতে মুসলিম নির্যাতন ও বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
ড. আহমদ আবদুল কাদের আরো বলেন, ‘দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, গত এক সপ্তাহে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লালমনিরহাট সীমান্তে তিনজন বাংলাদেশী নাগরিককে হত্যা করা হলেও এর উপযুক্ত জবাব চাইতে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনারকে এখনো তলব করেনি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমরা অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারকে এই ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানাই।’
তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়-খ্যাত দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইল বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষকে তারা হত্যা-নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি লেবাননে দু’জন প্রবাসী বাংলাদেশীকেও তারা ড্রোন হামলা চলিয়ে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে। প্রবাসের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষগুলোকেও ইসরাইল শত্রুজ্ঞান করছে। আমরা ইসরাইলি এমন বর্বরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা আরো নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাই।’
খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তর সভাপতি মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকারের সভাপতিত্বে ও মহানগরী দক্ষিণ সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেনে পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্মমহাসচিব অধ্যাপক আবদুল জলিল, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, মুহাদ্দিস মাওলানা সালাউদ্দিন, কেন্দ্রীয় শ্রমবিষয়ক সম্পাদক প্রভাষক মুহাম্মদ আবদুল করিম, মুফতি আবুল হাসান এমপি, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: আব্দুর রাজ্জাক আসাদ, শাহাবুদ্দিন আহমদ খন্দকার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হাজী নুর হোসেন, আমীর আলী হাওলাদার, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস সেক্রেটারি জেনারেল জাকারিয়া হোসাইন জাকির, খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সহ-সভাপতি মল্লিক মোহাম্মদ কেতাব আলী, উত্তর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক, দক্ষিণ সহ-সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির আজাদ, মুন্সী মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মদ সেলিম হোসাইন, বায়তুলমাল সম্পাদক আবদুল হান্নান সরকার, মহানগরী উত্তর সহ-সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক হাসান, মুজিবুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কাওসার আহমেদ সোহাইল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান, মাওলানা বশির উল্লাহ মামুন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ড. মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফারুকী প্রমুখ।



