বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলেই শ্রমজীবী মানুষের বড় কোনো সমস্যা থাকবে না।
আজ নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজেকে শ্রমিক হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এ দেশের শ্রমজীবী মেহনতি মানুষকে সম্মানিত করেছিলেন।
এ সময় তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান, যিনি শ্রমজীবী মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে শ্রম আইনকে লেবার কোর্টে রূপান্তর এবং লেবার ফাউন্ডেশন গঠনের মাধ্যমে দুঃসময়ে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করেছিলেন।
তিনি আরো বলেন, তারেক রহমান সুদূর বিদেশে থেকেও দেশের গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং শ্রমজীবী জনগণকে ফ্যাসিস্ট সরকারের হাত থেকে মুক্ত করার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছেন। বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা দলের প্রধান হিসেবে তিনি নির্বাচনী ইশতেহারে মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ অন্তর্ভূক্ত করেছেন।
মে দিবস উপলক্ষে তিনি শ্রমিকদের দাবি আলাদাভাবে তুলে না ধরে বলেন, শহীদ জিয়া যা করতে চেয়েছিলেন, বেগম জিয়া যা করেছেন বা করতে চেয়েছিলেন এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলেই শ্রমজীবী মানুষের বড় কোনো সমস্যা থাকবে না।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার মাত্র দুই মাস দায়িত্বে থাকলেও আগামী দিন, মাস ও বছরে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে বিএনপির সাথে যুক্ত থেকে এবং একই বছরের ডিসেম্বরে শ্রমিক দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি কাজ করে আসছেন। ভুল-ত্রুটি থাকলেও তিনি সবসময় সাথীদের সাথেই ছিলেন। মে দিবসের এই বৃহৎ সমাবেশ সফল করার জন্য উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নজরুল ইসলাম খান একটি আবেদন জানিয়ে বলেন, শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ভালোবাসলে আগামী এক বছরে প্রত্যেকে অন্তত দুইজন নতুন কর্মী বিএনপিতে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, এভাবে সদস্য বৃদ্ধি পেলে সংগঠনের শক্তি বহুগুণে বাড়বে এবং প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা সহজ হবে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে ২০০ সদস্য থাকলে প্রত্যেকে আরো দুইজন করে যুক্ত করতে পারলে সদস্য সংখ্যা ৬০০-তে উন্নীত হবে, যা নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। একইভাবে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, ওলামা দল ও কৃষক দলসহ সব সংগঠনের নেতাকর্মীরা যদি এই উদ্যোগ নেন, তাহলে দলকে কেউ দুর্বল করতে পারবে না।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিএনপি শক্তিশালী থাকলে শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শ ও প্রচেষ্টা সফল হবে।
শেষে উপস্থিত সবার কাছে হাত তুলে অঙ্গীকার নেয়ার আহ্বান জানান তিনি এবং আগামী মে দিবসে আরো বড় সমাবেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।



