ঐতিহাসিক পলাশী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ: সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও আজাদির সংগ্রামের সিলসিলা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ওসমান হাদী হল (প্রস্তাবিত) অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন গবেষক ও প্রাবন্ধিক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক।
প্রধান আলোচক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন ১৯৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর বিপর্যয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, দূরদর্শিতার অভাব, প্রজ্ঞার ঘাটতি এবং জাতীয় স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্র সফল হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, বাংলার সমৃদ্ধ অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণেই ইউরোপীয় বণিকরা এ অঞ্চলে আসে এবং ধীরে ধীরে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
তিনি ১৭৫৭ সালের পলাশীর পরাজয়ের পর বাংলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিকতাও তুলে ধরেন।
বিশেষ আলোচক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধীরে ধীরে বাংলায় ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তি তৈরি হয়। তিনি মুঘল প্রশাসনিক দুর্বলতা, ১৭১৩ সালের ফরমান এবং তার প্রভাবসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক দিক বিশ্লেষণ করেন।
বক্তারা বলেন, পলাশীর পরাজয়ের পর ব্রিটিশ শাসনামলে ১৭৭০ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এবং নীলচাষসহ বিভিন্ন নীতির কারণে বাংলার অর্থনীতি, শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা গভীর সংকটে পড়ে। একই সঙ্গে মসলিন শিল্পের পতন ও ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতির মাধ্যমে সামাজিক বিভাজন তৈরি করা হয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
আলোচনায় বক্তারা স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা তুলে ধরে বলেন, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই অঞ্চলের জনগণ স্বাধিকার অর্জন করে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনগুলোও সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার অংশ বলে তারা মন্তব্য করেন।
শেষে বক্তারা পলাশীসহ সকল ঐতিহাসিক সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।



