সরকারি ভাতা সঠিক ও যোগ্য মানুষের কাছে পৌঁছাতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন।
আজ বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের চতুর্থ দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে মাঠপর্যায়ে সঠিক বাস্তবায়নের ওপর। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তারা মন্ত্রণালয় এবং তৃণমূল জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন। তাই তাদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিষ্ঠা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে ভাতাভোগীদের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সমস্যা সমাধানে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা বিদ্যমান তালিকা পুনঃযাচাই করবে। প্রকৃত উপকারভোগীদের শনাক্ত করতে আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। ‘গভর্নমেন্ট টু পারসন’ (জি-টু-পি) পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তবে কেবল ভাতা প্রদানই সরকারের লক্ষ্য নয়, বরং সুবিধাভোগীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা এবং তাদেরকে জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করাই মূল উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে নারীদের এবং যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত করার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ফারজানা শারমিন বলেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম যেন না ঘটে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের সতর্ক থাকতে হবে। মাঠপর্যায়ে কোনো সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা দেখা দিলে তা দ্রুত মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সঠিক সমন্বয় ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সরকারি সেবা কার্যকরভাবে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, ডিসিদের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। যেকোনো সরকারি কর্মসূচির সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার সময় দুর্নীতিরোধে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি সচেতন থাকার জন্যও নির্দেশনা দেন। সূত্র : বাসস



