বাংলাদেশের পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখায় বিএসএফের ঠেলে দেয়া নারী-শিশুসহ ১০ জন মানুষের ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অমানবিকভাবে আটকে থাকার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের খাদ্য, পানি ও আশ্রয় নিশ্চিতে জাতিসঙ্ঘ আবাসিক সমন্বয়কারী ও আইওএমের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম (ব্যারিস্টার আরমান)।
রোববার (৭ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দেশের উত্তরের সীমান্তে পঞ্চগড়-নীলফামারী অঞ্চলে বড়বাড়ি ক্যাম্পের বিপরীতে শূন্যরেখায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জন মানুষের ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলমান মানবেতর জীবনযাপনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। ভাসমান এই মানুষগুলোর মধ্যে শিশু রয়েছে। খোলা আকাশের নিচে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসা ছাড়া প্রতিটি ঘণ্টা তাদের জন্য জীবনঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
প্রকাশিত সংবাদ ও ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (নীলফামারী) অধিনায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এই ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিজিবির কঠোর অবস্থানে তারা প্রবেশ করতে পারেনি। এরপর কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে দুই দেশের মধ্যবর্তী সীমান্ত বেষ্টনীতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে তিন দিনের বেশি সময় ধরে তারা আটকে আছে। আজ দুপুরে আবারও তাদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
এই মানুষগুলোর পরিচয়, নাগরিকত্ব ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণ মূলত দুই রাষ্ট্রের মধ্যকার অভিবাসন ও সীমান্ত-ব্যবস্থাপনার বিষয়; তা প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক চ্যানেল ও বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া যত সময়ই নিক, তা কখনোই এই মানুষগুলোর — বিশেষত শিশু ও নারীদের — মৌলিক মানবিক চাহিদা ও বেঁচে থাকার অধিকারের বিনিময়ে চলতে পারে না। আইনি পরিচয় যা-ই হোক, তারা মানুষ; তাদের প্রতি মানবিক দায় কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল নয়।
আমি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি অবৈধ পুশইনের এই অমানবিক প্রবণতা বন্ধের জোর আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে দুই দেশের প্রতি অনুরোধ করছি — পরিচয় ও দায় নির্ধারণের প্রশ্ন মীমাংসার আগেই যেন এই মানুষগুলোর কাছে অবিলম্বে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি আশ্রয় ও চিকিৎসা পৌঁছানো নিশ্চিত করা হয়, যেখানে শিশু ও নারীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিশু অধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবিক ন্যূনতম মানদণ্ড এ ক্ষেত্রে অবশ্যপালনীয়।
বিষয়টির মানবিক দিক বিবেচনায় আমি জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি এবং আটকে পড়া মানুষগুলোর কাছে অবিলম্বে মানবিক প্রবেশাধিকার ও মৌলিক সহায়তা নিশ্চিত করতে তাদের সদিচ্ছা ও সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের জোর আহ্বান জানিয়েছি। বিরোধী দল হিসেবে আমরা ভুক্তভোগী এই মানুষগুলোর পাশে আছি এবং সরকারের প্রতিও সর্বোচ্চ জরুরি ভিত্তিতে কূটনৈতিক ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। মানুষের জীবন ও মর্যাদার চেয়ে বড় কিছু নয়।”



