পল্লবীতে শিশু রামিসার খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ছাত্রশিবিরের

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

নিজস্ব প্রতিবেদক
রামিসা আক্তার
রামিসা আক্তার |সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ‘নির্মমভাবে যৌন নির্যাতন ও বিকৃত উপায়ে’ হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

আজ বুধবার (২০ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের ওপর সংঘটিত এই অমানবিক ও নৃশংস বর্বরতার ঘটনা পুরো জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে বিকৃত যৌন নির্যাতনের পর অপরাধ ধামাচাপা দিতে তার লাশ খণ্ডিত ও গুম করার চেষ্টা করা হয়। এই পাশবিক কর্মকাণ্ড কোনো সুস্থ ও সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না। এই লোমহর্ষক ঘটনা প্রমাণ করে যে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও নৈতিক অবক্ষয় কোন চরম স্তরে পৌঁছেছে।’

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ চলমান আইনশৃঙ্খলার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘রামিসার হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিগত কয়েক মাসে দেশজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতন চরম আকার ধারণ করেছে। অতি সম্প্রতি সিলেটে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা, নেত্রকোনায় ১১ বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতন এবং নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ১৫ বছরের কিশোরীকে অপহরণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা দেশবাসীকে স্তব্ধ করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই ৭৭৬ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং অন্তত ৮১ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। উপরন্তু, এসব মামলার মাত্র ৩ শতাংশের কম অপরাধীর সাজা হওয়া প্রমাণ করে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি কতটা জেঁকে বসেছে। ঘরে-বাইরে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে- কোথাও আজ আমাদের মা-বোন ও শিশুরা নিরাপদ নয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব যাদের, সেই সরকার ও প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।’

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তি না হওয়া, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সরকার ও প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই ধর্ষক ও খুনিরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে রামিসাদের মতো নিষ্পাপ শিশুদের। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আইনশৃঙ্খলার এই নাজুক পরিস্থিতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির দায় সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।’

নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাসহ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। একইসাথে তারা নিহত শিশু রামিসার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং দেশে নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়তে সর্বস্তরের জনতাকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।