ভারতে মুসলিমদের নির্যাতনের প্রতিবাদ ছাত্রশিবিরের

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জানিয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও বুলডোজার অভিযান নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের লোগো
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের লোগো |সংগৃহীত

ভারতে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিজেপি কর্মীদের বুলডোজার দিয়ে মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

আজ শনিবার (৯ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে মুসলমানদের ওপর এই পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। নির্বাচনের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে মুসলিমদের ওপর সুপরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হচ্ছে। বুলডোজার দিয়ে বেছে বেছে মুসলিমদের বাড়িঘর ও দোকানপাট ভেঙে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে দার্জিলিং ও উলুবেড়িয়ায় মসজিদে হামলা এবং সম্পদ লুটপাটের ঘটনা উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চরম মুসলিমবিদ্বেষী রূপেরই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তারা বলেন, ‘ভারতের ইতিহাসে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নের ঘটনা দীর্ঘদিনের। অথচ মুসলিম শাসনামলের দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ শ’ বছরে এ অঞ্চল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ ছিল, যেখানে হিন্দুসহ সব ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা ও মর্যাদা ভোগ করতেন। কিন্তু ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকে মুসলিমদের ওপর ধারাবাহিক নির্যাতন চলমান রয়েছে। ১৯৮৪ সালের শিখ বিদ্রোহ, ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গা এবং পরবর্তীতে মুজাফফরনগর, পাটনা ও দিল্লির সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় সহস্রাধিক নিরীহ মুসলিমকে হত্যা ও বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকত্ব আইন (সিএএ), এনআরসি এবং বিতর্কিত ওয়াকফ সংশোধন বিলের মাধ্যমে মুসলমানদের অধিকার সংকুচিত ও ধর্মীয় সম্পদ দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বর্তমানে বিজেপি সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ ও প্রশাসনিক নির্লিপ্ততায় এসব হামলা পদ্ধতিগত নিপীড়নের রূপ নিয়েছে।’

নেতৃবৃন্দ আরো উল্লেখ করেন, ‘ভারতের ইতিহাস, স্থাপত্য এবং আধুনিক বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নয়নে মুসলমানদের অবদান অনস্বীকার্য। তাজমহল, লাল কেল্লা ও কুতুব মিনারের মতো কালজয়ী স্থাপত্য থেকে শুরু করে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তির ভিত গড়েছেন মুসলিমরাই। অথচ আজ সেই অবদানকে অস্বীকার করে রাষ্ট্রীয় ছত্রচ্ছায়ায় জুলুম চালানো হচ্ছে। রাষ্ট্র যখন নিজেই কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ওপর এমন পদ্ধতিগত নির্যাতন চালায়, তখন সেখানে মানবাধিকার বলে কিছুই থাকে না।’

পরিশেষে, ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর চালানো এই বর্বরোচিত হামলা বন্ধের জোর দাবি জানান। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভারতের এই দমনমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি অপরাধীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে ভারত সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি