সড়ক পরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, ‘মাদকসেবন ও মাদক কারবারির মাধ্যমে সমাজ ধ্বংসকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।’
তিনি মাদক কারবারিদের সতর্ক করে বলেন, ‘আজ হোক বা কাল, আইন ও বিচারের আওতায় তাদের আসতেই হবে; রাজনৈতিক পরিচয় বা অন্য কোনো প্রভাব তাদের রক্ষা করতে পারবে না।’
শুক্রবার (১৯ জুন) জুমার নামাজের পর রাজধানীর মুগদা থানা ইমাম-উলামা পরিষদের উদ্যোগে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে জনসচেতনতামূলক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
মুগদা-মানিকনগর ওয়াসা রোড ব্রিজ সংলগ্ন সড়কে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মুগদা থানা ইমাম-উলামা পরিষদের সভাপতি হাফেজ মাওলানা তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে আরো বক্তৃতা করেন, থানা সেক্রেটারি মুফতি শফিকুল ইসলাম মাযহারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি আরাফাত হোসেন, প্রচার সম্পাদক মুফতি ফয়জুল্লাহ জিবনপুরী প্রমুখ।
ঢাকা-৯ আসনের এমপি হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পর সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাদক নির্মূল। মাদকের বিস্তৃতির কারণে সমাজের পারিবারিক, নৈতিক ও সামাজিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক বা সামাজিক পর্যায়ে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ প্রশ্রয় না পেলে মাদক ব্যবসায়ীরা এতটা বিস্তার লাভ করতে পারত না। তাই মাদক প্রতিরোধে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পরে মাদকবিরোধী গণমিছিল বের হয়।‘
মিছিলে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ আলেম-উলামা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মিছিলটি মানিকনগর, মুগদা গার্মেন্টস গলি, বড় মসজিদ হয়ে মান্ডা ছাতা মসজিদ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।
সেমিনারে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ১২ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিগুলো হলো
১) মূল হোতাদের শাস্তি: মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। ২) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষা: স্কুল, কলেজ ও তার আশেপাশে মাদক বিক্রি ও সেবন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। ৩) নিয়মিত অভিযান: মাদকের রুট ও আস্তানাগুলো খুঁজে বের করে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। ৪) চিকিৎসা ও পুনর্বাসন: মাদকাসক্তদের সুস্থ করতে সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র বাড়াতে হবে। ৫) এলাকাভিত্তিক সচেতনতা: ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মাদকবিরোধী প্রচারণা চালাতে হবে। ৬) যুব সমাজের উন্নয়ন: তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কাজের প্রশিক্ষণ বাড়াতে হবে। ৭) কোনো রাজনৈতিক ছাড় নয়: প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক পরিচয়ে কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেয়া যাবে না। ৮) সহজ হটলাইন: মাদক সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ দেওয়ার জন্য সহজ ও নিরাপদ হটলাইন চালু রাখতে হবে। ৯) সীমান্তে কড়া পাহারা: দেশের সীমান্ত ও সব প্রবেশপথে মাদক পাচার রোধে নজরদারি জোরদার করতে হবে। ১০) যৌথ স্থায়ী কমিটি: প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে একটি স্থায়ী কমিটি করতে হবে। ১১) এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগাতে হবে। এবং ১২) মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে পরিবর্তন করে মাদক নির্মূল অধিদপ্তর করতে হবে।



