জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা

সরকারকে সতর্ক করলেন মাওলানা আব্দুল হালিম

কাফরুলে রুকন শিক্ষাশিবির

‘দীর্ঘ জুলুম-নির্যাতন, হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের রক্ত পিচ্ছিল পথ ধরেই জামায়াত এখন জনগণের মনের মণিকোটায় স্থান করে নিয়েছে।'

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বক্তব্য রাখছেন মাওলানা আব্দুল হালিম
বক্তব্য রাখছেন মাওলানা আব্দুল হালিম |সংগৃহীত

গণরায় নিয়ে ষড়যন্ত্র এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা করলে গণরোষের মুখোমুখি হতে হবে বলে সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

তিনি শুক্রবার (৮ মে) সকালে কাফরুল অঞ্চল জামায়াত আয়োজিত এক সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ‘দীর্ঘ জুলুম-নির্যাতন, হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের রক্ত পিচ্ছিল পথ ধরেই জামায়াত এখন জনগণের মনের মণিকোটায় স্থান করে নিয়েছে। বিগত সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জামায়াতকে ভোট প্রদান করেছে। কিন্তু ষড়যন্ত্র ও ডাকাতির মাধ্যমে গণরায় পাল্টে দেয়া হয়েছে। তারপরও জামায়াত দেশের শুধু বিরোধী দল নয় বরং জননন্দিত রাজনৈতিক ও আদর্শিক দল। তাই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমাদেরকে জনগণের পক্ষেই কথা বলতে হবে। আমরা এক্ষেত্রে কারো সাথে আপস করে চলবো না।’

তিনি সংগঠনের রুকনদেরকে ধৈর্য, প্রজ্ঞা, সবর, ঈমান এবং তাকওয়ার মাধ্যমে আগামী দিনে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার বিভাগীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান বলেন, ‘গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ এ সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, সরকার অসৎ উদ্দেশ্যে জুলাই সনদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা সনদ বাস্তবায়ন না করতে নানাবিধ কুযুক্তি দাঁড় করাচ্ছে। কিন্তু জনগণ তাদের সে স্বপ্নবিলাস কোনোভাবেই বাস্তবায়িত হতে দেবে না বরং ঐক্যবদ্ধভাবে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেবে।’

তিনি স্বৈরাচারের পথ অনুসরণ না কলে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে বর্তমান ক্ষমতাসীনদের উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান ছিল না। তাই তারা এখন জুলাই সনদকে পাশ কাটানোর নানা ধরনের টালবাহানা শুরু করেছে। যা গণরায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা। কিন্তু এসব করে সরকার কোনোভাবেই গণরায় পাশ কাটাতে পারবে না বরং তা তাদের জন্যই তা হবে আত্মঘাতী’।

তিনি সরকারকে অপরাজনীতি বন্ধ করে ইতিবাচক ও উৎপাদনের রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় তাদেরকে অতীতের পরিণতি বরণ করতে হবে।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা: ফখরুদ্দিন মানিকের সভাপতিত্বে শিক্ষাশিবিরে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমিরে আব্দুর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরে সহকারী সেক্রেটারি, মাহফুজুর রহমান ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুস সামাদ।

উপস্থিত ছিলেন মিরপুর পূর্ব থানার আমির শাহ আলম তুহিন, সহকারী জোন পরিচালক শহীদুল্লাহ, জামায়াত নেতা অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম, রেজাউল করিম মাহমুদ, জসিম উদ্দিন, আতিকুল ইসলাম, আশিকুর রহমান, ওয়াহিদুল ইসলাম, মু. আবু নাহিদ, তারেক রেজা তুহিন, আলাউদ্দীন, খান হাবিব মোস্তফা, আনিসুর রহমান ও আলাউদ্দিন মোল্লা প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি