কলমিলতা মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শনে জামায়াত নেতারা

অগ্নিদুর্গতদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে: সাইফুল আলম খান মিলন এমপি

তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এবং অগ্নিদুর্গতদের জামায়াতের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সান্ত্বনা দেন জামায়াত নেতারা
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সান্ত্বনা দেন জামায়াত নেতারা |সংগৃহীত

রাজধানীর বিজয় সরণির কলমিলতা মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। এ সময় তারা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে সরকার, রাজনৈতিক দল, সরকারি-বেসরকারি দাতাসংস্থাসহ সমাজের বিত্তবান মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘সরকার জনগণের জানমাল নিয়ে এভাবে নির্লিপ্ত থাকতে পারে না।’

তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এবং অগ্নিদুর্গতদের জামায়াতের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর বিজয় সরণি মোড় সংলগ্ন কলমিলতা কাঁচাবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ‘প্রতিবছরই রাজধানীসহ সারাদেশে বহুসংখ্যক অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনার পর সরকার বা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে বেশ তৎপর মনে হলেও এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না। দেশে অগ্নিনির্বাপনে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও নেই। সেকেলে ও প্রচলিত পদ্ধতিতে অগ্নিনির্বাপনের কাজ হওয়ার প্রতিবছরই জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, এদিন ভোর আনুমানিক ৫টায় ঘটনাস্থলে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বেলা ১০টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে কাঁচাবাজার, গোশতের দোকান, মাছ বাজার ও দর্জির দোকানসহ সবকিছু ভস্মীভূত হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা হয়ে পড়েছেন সর্বস্বান্ত।

এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘সরকার সিটি করপোরেশনের নির্বাচন না দিয়ে সংবিধান লংঘন করে দলীয় ব্যক্তিকে প্রশাসক নিয়োগ করেছে। ফলে ডিএনসিসিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে না। আর কোনো অনির্বাচিত প্রশাসক দিয়ে নগরীর সমস্যা সমাধান করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

তিনি অবিলম্বে সিটি নির্বাচনের দিয়ে নির্বাচিতদের হাতে নগর প্রশাসনের দায়িত্ব হস্তান্তর করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের জামায়াতের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।

জামায়াত নেতৃবৃন্দ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে একান্তে কথা বলেন এবং সান্ত্বনা দেন। নেতৃবৃন্দ ব্যবসায়ীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের জন্য সম্ভব কিছু করার আশ্বাস দেন। একই সাথে তারা ক্ষতিগ্রস্ত বিপদে ধৈর্যধারণ এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও হাতিরঝিল অঞ্চল পরিচালক হেমায়েত হোসেন, অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, তেজগাঁও থানার আমির ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নো’মান আহমেদী ও সেক্রেটারি ফরিদ আহমেদ রুবেল প্রমুখ।