ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ

শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদ ও খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

তিনি অবিলম্বে রামিসাসহ সংঘটিত সকল নারী ও শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের মজলিসে আমেলার মাসিক বৈঠক
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের মজলিসে আমেলার মাসিক বৈঠক |ছবি : নয়া দিগন্ত

‘দেশ আজ ভয়ঙ্কর নিরাপত্তাহীনতার জনপদে পরিণত হয়েছে। একের পর এক শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও নির্মম হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করছে যে, রাষ্ট্র নারী ও শিশুদের জীবন রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। রামিসা শুধু একটি নাম নয়; বিচারহীনতার এই রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাওয়া অসংখ্য নিষ্পাপ শিশুর প্রতীক।’

বুধবার (২০ মে) বিকেলে রাজধানীর আইসিএবি মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের মজলিসে আমেলার মাসিক বৈঠকে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ পল্লবীতে শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ ও খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন এখন মহামারীর রূপ নিয়েছে। কিন্তু সরকার ও প্রশাসনের উদাসীনতা, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া এবং দুর্বল বিচার ব্যবস্থার কারণে অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে ধর্ষকচক্র দিন দিন আরো বেপরোয়া ও সংঘবদ্ধ হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, যে রাষ্ট্র শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সে রাষ্ট্রের উন্নয়নের সকল গল্পই জনগণের সাথে নির্মম প্রতারণা। আজ দেশের মানুষ প্রশ্ন করতে বাধ্য হচ্ছে, আর কত শিশু ধর্ষিত ও হত্যার শিকার হলে সরকারের টনক নড়বে?

তিনি বলেন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তা, মামলা ধামাচাপা, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিই অপরাধীদের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে। সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, মাদক, অশ্লীলতার বিস্তার এবং ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের অবনতির ফলে অপরাধ ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই শুধু আইন প্রয়োগ নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি অবিলম্বে রামিসাসহ সংঘটিত সকল নারী ও শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদের সঞ্চালনায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হোসাইন ইবনে সরোয়ার, ইমরান হোসাইন নূর, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল ফয়জুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইবরাহীম খলীল, প্রশিক্ষণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম, তথ্য-গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্পাদক কামরুল ইসলাম, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাইমুন ইসলাম মিঠুন, দফতর ও যোগাযোগ সম্পাদক আহমাদ শাফী, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ইউসুফ পিয়াস, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিতর্ক সম্পাদক উবায়দুল্লাহ মাহমুদ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মনজু, প্রকাশনা সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ মাহদী ইমাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক ইব্রাহীম নাসরুল্লাহ, কারিগরি শিক্ষা সম্পাদক মুহাম্মাদ খাইরুল কবির, অর্থ ও কল্যাণ সম্পাদ তানভীর আহমেদ শোভন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক সাঈদ আবরার, স্কুল ও কলেজ সম্পাদক আব্দুর রহমান, কওমি মাদরাসা সম্পাদক বি এম মাহদী আল হাসান, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিক, কার্যনির্বাহী সদস্য সোহরাব হোসেন ফজলে, গাজী ফাহিমুল ইসলাম।