মনোনয়ন বাণিজ্য রোধে পিআর পদ্ধতির দাবি জামায়াত নেতার

যারা মনোনয়ন বাণিজ্য করে তারাই পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করে। পিআর পদ্ধতি চালু হলে মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ হবে, ফলে প্রার্থীদের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডও বন্ধ হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান
বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি চালু হলে মনোনয়ন বাণিজ্যের সুযোগ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘যারা মনোনয়ন বাণিজ্য করে তারাই পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করে। পিআর পদ্ধতি চালু হলে মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ হবে, ফলে প্রার্থীদের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডও বন্ধ হবে।’

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘কোটি কোটি টাকা দিয়ে দলীয় মনোনয়ন কেনার কারণে প্রার্থীরা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়। যেসব দল মনোনয়ন বিক্রি করে তারাই দুর্নীতির পথ তৈরি করে দেয়। জামায়াতে ইসলামী কোনো প্রার্থীর কাছে দলীয় মনোনয়ন বিক্রি করে না। ইসলামী বিধান অনুযায়ী কেউ নিজ থেকে প্রার্থী হতে পারে না। তৃণমূলের রোকনদের মতামত, স্থানীয়দের গ্রহণযোগ্যতা, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়। ফলে জামায়াতের প্রার্থীরা অধিক সৎ, যোগ্য এবং দুর্নীতিমুক্ত।’

তিনি আরো বলেন, ‘তীর, তরবারি, বুলেটের জেহাদের মতো এবার ব্যালট যুদ্ধে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছাতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচি জানাতে হবে। বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে জনগণের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে জামায়াত। অন্যরা দখল করেছে বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, হাটবাজার, দোকানপাট- আমরা দখল করেছি মানুষের হৃদয়।’

জামায়াতের এই নেতা আরো বলেন, ‘জামায়াতের জনপ্রিয়তা দেখে এখন মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদেরই জনপ্রিয়তা কমছে। জনগণ সবই দেখে, সবই বুঝে, কারা জনগণের পক্ষে কাজ করে আর কারা শোষণ করে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণকে সাথে নিয়ে ব্যালট যুদ্ধে জামায়াতের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা ফরিদুল ইসলাম।

এছাড়া কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ড. আব্দুল মান্নান, মো: শামছুর রহমান এবং মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মোকাররম হোসাইন খান, অধ্যাপক নুর নবী মানিক, আব্দুস সালাম, মাওলানা মোশাররফ হোসেন, ডা. আতিয়ার রহমান, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ড. মোবারক হোসেন, কামরুল আহসান হাসানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের অভূতপূর্ব বিজয় জনগণের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এই বিজয়ে আধিপত্যবাদীদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। জনগণ ভোটের মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণের অধিকার আদায়ে আপোষহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতের নেতৃত্বে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।’ বিজ্ঞপ্তি