বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শুধু গ্রেফতার করে মানুষকে সামাল দিলে হবে না। এমন বিচার করতে হবে যাতে প্রতিটি শিশুর পিতার হৃদয় প্রশান্ত হয়। আইন সংশোধন করে ধর্ষণ ও এই ধরনের নৃশংস হত্যার জন্য প্রকাশ্যে ও জনসম্মুখে দণ্ড কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় ও পরকালের ভয় সৃষ্টির জন্য নৈতিক ও ইসলামী শিক্ষা প্রয়োজন। নৈতিকতা তৈরি না হলে এভাবেই শিশুরা ধর্ষিত ও নিহত হবে। শুধু আইন বা পুলিশ দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষা হয় না। জামায়াত আমীরের কথার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ডা: শফিকুর রহমান হজে যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে বলে গেছেন যে আমরা শিশু রামিসার কাছে লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।
রাজধানীতে শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে বুধবার (২০ মে) বিকেলে বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে সংগঠনটির ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি দক্ষিণ গেট থেকে শুরু করে পল্টন হয়ে বিজয়নয়র ট্যাংকির মোড় গিয়ে শেষ হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার বা প্রশাসনের দায়িত্বে যারা আছেন তারা হয়তো বলবেন- সব সমাজেই কিছু অপরাধ প্রবণতা থাকে। আমরা বলতে চাই, মানব সমাজ ১০০ ভাগ অপরাধমুক্ত হয় না এটা ঠিক, কিন্তু সেই অপরাধ এত নিষ্ঠুর হতে পারে না যে দিনের বেলা কলিজার টুকরা মেয়ের গলায় ছুরি চালিয়ে মাথা আলাদা করে দেয়া হয়।
তিনি বলেন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এত মানুষ কাঁদে, মানুষের বিবেক জাগ্রত হয়, কিন্তু তার বিবেক জাগ্রত হয় না। পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে আমরা দেখেছি রেল দুর্ঘটনা হলে বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে মন্ত্রীরা পদত্যাগ করেন, এমনকি প্রাইম মিনিস্টারও ক্ষমতা ছেড়ে দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার পরিবারের বাচ্চাদের চেহারা কি আপনার মনে পড়ে না? আপনি কি শিশুটির মা-বাবার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে পারেন না? আমরা যতটুকু জানি, এখনো আপনারা যাননি।
তিরি বলেন, আপনারা শুধু অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দেন। জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলো নিয়ে বলেন- তারা অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। আমরা পরিষ্কারভাবে সরকার ও দেশবাসীকে বলি—জামায়াতে ইসলামী কোনো অস্থিতিশীল রাজনীতি করে না। আপনারা সবকিছুতেই বিরোধী দলকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, সংবিধানের টানাটানি ছেড়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করুন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি জেনারেল ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. আব্দুল মান্নান, ড. মোবারক হোসেন, ইয়াসিন আরাফাতসহ মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।



