মসজিদের ইমাম থেকে পুরোহিত পাচ্ছেন ৫ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী

প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট স্কিমের আওতায় মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি মসজিদের ইমাম সাহেব পাবেন পাঁচ হাজার টাকা করে সম্মানী। মুয়াজ্জিন সাহেব পাবেন তিন হাজার টাকা করে সম্মানী। খাদেম সাহেব পাবেন দুই হাজার টাকা করে সম্মানী। তার মানে প্রতিটি মসজিদে মাসিক ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ |নয়া দিগন্ত

সারাদেশে ইমাম, মোয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা দিতে যাচ্ছে সরকার। একইসাথে মন্দির ও গির্জার পুরোহিতদের একই সম্মানী দেয়া হবে। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে এই সম্মানী পাবেন তারা। এর আগে, ১৪ মার্চ এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইমাম ও পুরোহিতরা পাঁচ হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী পাবেন।

আজ রোববার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ধর্মমন্ত্রীর অফিস কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণ ভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকেই আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতির কথা বলা ছিল একে একে সে সমস্ত প্রতিশ্রুতির ফ্ল্যাগশিপ যেসব প্রতিশ্রুতিগুলো আছে, সেগুলো বাস্তবায়নের কার্যকরী পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেয়া হয়েছে, আপনারা সেটা দেখেছেন- আমাদের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড নিয়ে অলরেডি আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঈদুল ফিতরের পূর্বেই মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদানের বিষয়ে সরকার সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

তিনি বলেন, সরকার প্রথম পর্যায়ে আসন্ন ঈদুল ফিতর ২০২৬ এর পূর্বেই একটি পাইলট স্কিমের আওতায় মাসিক ভাতা চালু করার লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়ন এবং প্রতিটি পৌরসভা হতে একটি করে মোট ৪৯০৮টি মসজিদ এবং অন্যান্য উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা হতে দু’টি করে মোট ৯৯০টি মন্দির। সারাদেশে ৭২টি উপজেলায় বৌদ্ধ বিহার অবস্থিত হওয়ায় প্রতিটি উপজেলা হতে দু’টি করে মোট ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার ও ১৯৮টি উপজেলায় গির্জা অবস্থিত হওয়ায় প্রতিটি উপজেলা হতে দু’টি করে মোট ৩৯৬টি গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট স্কিমের আওতায় মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি মসজিদের ইমাম সাহেব পাবেন পাঁচ হাজার টাকা করে সম্মানী। মুয়াজ্জিন সাহেব পাবেন তিন হাজার টাকা করে সম্মানী। খাদেম সাহেব পাবেন দুই হাজার টাকা করে সম্মানী। তার মানে প্রতিটি মসজিদে মাসিক ১০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে।

পুরোহিত মন্দিরের পুরোহিত পাবেন পাঁচ হাজার টাকা। সেবা সায়েদ পাবেন তিন হাজার টাকা। বৌদ্ধ বিহারের বিহার অধ্যক্ষ পাবেন পাঁচ হাজার এবং বিহার উপাধ্যক্ষ পাবেন তিন হাজার। গির্জার যাজক পাবেন পাঁচ হাজার এবং সহকারী যাজক পাবেন তিন হাজার টাকা। মানে প্রতিটি গির্জা, মন্দির এবং বুদ্ধ মন্দিরে দেয়া হচ্ছে আট হাজার টাকা করে এবং প্রতি মসজিদে দেয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা করে।

তিনি বলেন, এছাড়া প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাতে এক হাজার টাকা করে এবং দুর্গাপূজা বৌদ্ধ মা ও বড়দিনে সংশ্লিষ্ট পুরোহিত সেবায়িত বিহার অধ্যক্ষ বিহার উপাধ্যক্ষ যাজক ও সহকারী যাজকদের দুই হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, এই সম্মানী প্রদানের জন্য চলতি অর্থবছরে ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। আগামী ১৫ মার্চ তারিখের মধ্যে নির্বাচিত সব উপকার ভোগীর নিকট সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এই সম্মানী পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, সম্মানী কোনো হাতে হাতে দেয়া হবে না। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। অতএব কোনো ধরনের দুর্নীতির মতো সুযোগ আমরা এই সিস্টেমের মধ্যে রাখিনি।

সূত্র : বাসস