চট্টগ্রামের সিটি কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াত দলীয় এমপি শাহজাহান চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ দাবি করেন।
এসময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।
শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামে নিউ মার্কেটের পাশে একটা কলেজ আছে (সিটি কলেজ)। যেই কলেজে ৩৬ জুলাই সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা হামলা করেছিল, তাদের ছবি ফেসবুকে আছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আছে। তারাই আজকে সিটি কলেজে সাধারণ ছাত্রদের একটি সমাবেশে সশস্ত্র সন্ত্রাসী আক্রমণ করেছে। এতে একজনের পা কর্তন করে ফেলেছে। ওই সময় (জুলাই আন্দোলনে) তাদের নামে মামলাও আছে। চট্টগ্রামের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার জন্য সিটি কলেজের নামধারী পাশের এলাকার অস্ত্রধারীরা, তারা যে সাধারণ ছাত্রদের পা কেটে নিলো- এ ব্যাপারে আপনার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যেহেতু আমাদের ওপরে একটা ব্লেম চাপানোর অভিযোগ এসেছে। আমার কাছে তো কারেন্ট নিউজ আসে-আমি যতটুকু জানি, চট্টগ্রামে একটা ঘটনা ঘটেছে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে। এটা নিয়ে নিউজ বেরিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে একটু সময় লাগবে। প্রয়োজনে এটার ওপর একটা বিবৃতিও দিতে পারব। তবে, এক তরফাভাবে আমিও ব্লেম দিতে চাই না, বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যেরও উচিত নয় কোনো তদন্ত ছাড়া কাউকে দোষারোপ করা।
মন্ত্রী বলেন, নোটিশ দিলেও আমি বলবো আমাকে সময় দিতে হবে। যদি এরকম ঘটনা হয়, থানায় মামলা করতে হবে। যথাযথ তদন্ত করতে হবে। তদন্তের আগেই দোষারোপের কালচার থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
এরআগে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্যরা।
লক্ষীপুর-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘অন্তবর্তী সরকার যে ঐক্যমত কমিশন গঠন করেছিল এর আইনগত কোনো ভিত্তি ছিল না। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনকে বিলম্বিত করা, প্রভাবিত করা। বিএনপি সেটা বুঝতে পেরে বুদ্ধিমত্তার সাথে মোকাবেলা করে নির্বাচন আদায় করে নিয়েছে।’
নওগা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল বলেন, ‘জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি সংসদে পাঠিয়েছে। এখন এই সংসদই দেশের সার্বিক বিষযে সিদ্দান্ত গ্রহণ করবে।’
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো: জাহিদুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম দিন থেকেই দেশের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’
মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাসের রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে জামায়াতের অনেকেই বলেছেন, তারা নাকি ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে কি দেখলাম। আসলে যেটি ঘটার সেটিই হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘একটি কথা আছে, ওস্তাদের মার শেষ রাতে। আমাদের নেতা তারেক রহমান সেটিই করে দেখিয়েছেন।’
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, মোবাইলের কারণে স্কুল শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। আমি স্কুল পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহারের ওপর একটা আইন করার দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া মাদকের অবাধ ব্যবহার বন্ধ ও মোটরসাইকেল চালানোর উপর বয়স নির্ধারণের একটি দাবি জানাচ্ছি।
খুলনা-২ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বলেন, এই সংসদ জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি। আমাদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন ইনসাফের বাংলাদেশ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আজ দেশে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, নৈরাজ্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মানুষ আবার দুঃশাসনের আভাস পাচ্ছে।
তিনি বলেন, জুলাই প্রমাণ করেছে জনগণই আসল শক্তি। তারা গণভোটে হ্যাঁ’ এর পক্ষে রায় দিলেও বিএনপি তা অস্বীকার করছে। যা পৃথিবীর ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে।
তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি ছিলেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোসর। তাকে ধন্যবাদ দেয়ার প্রশ্ন ই আসে না।
আলোচনায় আরো অংশ নেন পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদ, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী, টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য রবিউল আউয়াল, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোর্শেদ মিল্টন, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, ময়মনসিংহ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন, নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহী, গাজীপুর আসনের সংসদ সদস্য এস এম শফিকুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো: ফয়সাল আহমেদ, বরিশাল-৬ আসনের আবুল হোসেন খান, মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলী মিয়া, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, কক্সবাজার-৩ আসনের লুৎফর রহমান কাজল, বান্দরবান আসনের সাচিন প্রু, বগুড়া-৪ আসনের মোশারফ হোসেন প্রমুখ।


