দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও মান নিয়ন্ত্রণে গতি আনতে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে উচ্চপর্যায়ের ‘পর্যটন সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করেছে সরকার।
শনিবার (২৩ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারিকৃত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে, গত ২১ মে এ প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৭ সদস্যের এ কমিটিতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থমন্ত্রী।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী; পররাষ্ট্রমন্ত্রী; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী; সংস্কৃতিমন্ত্রী; ভূমিমন্ত্রী; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী; বাণিজ্যমন্ত্রী; গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী; পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী; রেলপথমন্ত্রী; নৌপরিবহন মন্ত্রী; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার এই কমিটিকে সাচিবিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সচিব (সিনিয়র সচিবসহ) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমি, স্বরাষ্ট্র, অর্থ বিভাগ, রেলপথ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, পররাষ্ট্র, সংস্কৃতি, পরিকল্পনা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক, পার্বত্য চট্টগ্রাম, স্থানীয় সরকার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, নৌপরিবহন, পরিবেশ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবরা কমিটিকে তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে কমিটির তিনটি মূল কাজের ক্ষেত্র বা কর্মপরিধি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এগুলো হলো—
এক, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সরকারকে সুনির্দিষ্ট নীতিগত পরামর্শ প্রদান।
দুই, দেশের পর্যটন খাতের লুকায়িত সম্ভাবনা, নতুন সুযোগ, বিদ্যমান সমস্যা এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে তা সমাধানের পথ বাতলানো।
তিন, পর্যটন খাতের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশী-বিদেশী এবং সরকারি-বেসরকারি (পিপিপি) বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রগুলো সুনির্দিষ্ট করা এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কার্যকর কর্মপন্থা ও কৌশল নির্ধারণ।
প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, এই কমিটি কাজের সুবিধার্থে প্রয়োজনে যেকোনো নতুন সদস্যকে ‘কো-অপ্ট’ (অন্তর্ভুক্ত) করতে পারবে। কমিটির সাচিবিক সহায়তার দায়িত্বে থাকবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
এ কমিটি গঠনের ফলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারির পুরনো পর্যটন সংক্রান্ত কমিটি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি বাতিল বলে গণ্য হবে এবং এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। বাসস



