আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর প্রতিটি পশুর হাটে জাল টাকা প্রতিরোধে তৎপরতা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পশুর হাটগুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও পুলিশের পক্ষ থেকে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন বসানো হবে। কোরবানির পশু কেনাবেচায় জাল নোটের বিস্তার ঠেকাতে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলামকে বলেন, ‘জাল টাকা প্রতিরোধে পুলিশ ঢাকা মহানগরীতে তৎপর রয়েছে। সম্প্রতি টঙ্গী ও গুলিস্তান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। এছাড়া ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর প্রতিটি পশুর হাটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বুথ থাকবে।’
ডিএমপির তথ্যমতে, ঈদকে সামনে রেখে একটি চক্র রাজধানীর বাজারগুলোতে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও র্যাব বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ চক্রের সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
কোরবানির পশু কেনার সময় কোনো নোট নিয়ে সন্দেহ হলে ক্রেতারা হাটে স্থাপিত পুলিশের বুথে গিয়ে বিনামূল্যে তা পরীক্ষা করাতে পারবেন।
র্যাবের মুখপাত্র উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতাদের ভোগান্তি রোধে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নগদ লেনদেন এড়িয়ে ক্যাশলেস বা কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে। জাল টাকা শনাক্ত ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখাসহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের পশুর হাটগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে র্যাব। রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাট, সড়ক ও মহাসড়কে টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, পশুর হাটে অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি, চুরি-ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিতে মোবাইল টিম এবং সিসিটিভি মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তিনি জানান, মহাসড়কে পশুবাহী যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে র্যাব।
ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, এ বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার পশুর হাটগুলোতে পুলিশের বুথ থাকবে। সেখানে সিটি করপোরেশন, ব্যাংক ও পুলিশের পক্ষ থেকে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, হাটে জাল নোট চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাট, প্রবেশপথ ও সড়কে থাকবে কড়া নিরাপত্তা, টহল ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ। একইসাথে পশুর হাটকে কেন্দ্র করে সড়ক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে জাল টাকা প্রতিরোধে সিআইডির একাধিক টিম প্রস্তুত রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে ২৮টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
সূত্র : বাসস



