ঢাকা-গাজীপুর রুটে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পটি পুর্ণাঙ্গভাবে চালু না হতেই এটা ভেঙ্গে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, বিগত সরকারের আমলে যারা এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করে এটা করার সুপারিশ করেছিল, তারাই এই ব্যয়বহুল প্রকল্পটি এবার ভেঙ্গে ফেলার সুপারিশ করেছে।
যানজটের এই নগরীতে দ্রুত চলাচলের জন্য বিআরটি বাতিলের পরিবর্তে এটা অতিসত্তর চালু করে দেয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)।
সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর সোনারগাঁও রোডের বিআইপি অফিসে আয়োজিত, ‘গণপরিবহন নির্ভর নগর : ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি’র ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
বিআইপি বলছে, বিআরটি চালুর মাধ্যমে যানজট, যাতায়াতের সময় কমে যাওয়া, জ্বালানি সাশ্রয় ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি গাজীপুর ও আশপাশের অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও নগর উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
একইসাথে বিআরটি কোম্পানিকে আরো ক্ষমতায়ন করে পেশাদার পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা আহ্বান জানিয়েছে বিআইপি।
সংবাদ সম্মেলনে বিআইপি জানিয়েছে, বিআরটি প্রকল্পটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা লাগবে। কিন্তু এই টাকা ব্যয় করে প্রকল্পটির যে ত্রুটি আছে তা সারিয়ে প্রকল্প চলাচলের জন্য খুলে দেয়া যায়। বিআইপি প্রকল্পটি দ্রুত চালু করার পরামর্শ দিয়েছে।
প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও এটা নিয়ে একটি নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ এবং নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে একটি উন্মুক্ত আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে বিআইপি।
তারা বলেন, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করার সময় পরিকল্পনাবিদদের নেয়া হয়নি। আলোচনার জন্য বর্তমানে বিআইপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১২ সালে প্রকল্পটি শুরু হয়ে ২০১৬ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালে এসেও প্রকল্পটি পুর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। উন্নতমানের বাস কেনার জন্য অতিরিক্ত ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে আরো অতিরিক্ত এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে পারলে আধুনিক ইলেকট্রিক বাস চালু করা যায়। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন অজুহাতে প্রকল্পটি বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে।
বিআইপি বলছে, এত ব্যয়, মানুষের কষ্টের পর এখন প্রকল্পটি বাতিলের প্রশ্নই আসে না বরং গণপরিবহন কেন্দ্রীয় পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিতে হবে। এর আগে করা সমীক্ষার ত্রুটি প্রকাশ এবং সংশোধনের দাবি জানানো হয়।
একইসাথে ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরে দ্রুত চলাচলের জন্য বিআরটি প্রকল্প বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে বিআইপি।
বিআরটি প্রকল্প নিয়ে ছয়টি প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। এগুলো হলো- আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ডেডিকেটেড লেনসহ ন্যূনতম (বেসিক) বিআরটি চালু করা; আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের ও বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করে বিআরটি বোর্ড পুনর্গঠন করা; ঢাকা-গাজীপুর বিআরটি করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোর জন্য এখনই ট্রানজিট অরিয়েন্টেড উন্নয়ন (টিওডি) প্রকল্প নেয়া; গাজীপুর ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানের প্রস্তাব আনুযায়ী বিআরটিকে ভবিষ্যতে আরো সম্প্রসারণ করার প্রকল্প নেয়া; ঢাকা-গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জ নগর অঞ্চলের জন্য বিশেষ সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা করে একাধিক বিআরটি প্রকল্প গ্রহণ করা; বিআইপি কর্তৃক প্রণীত ন্যাশনাল স্পেশাল প্ল্যানিং ফ্রেমওয়ার্কের (এসপিএফ) আলোকে দেশের বিভাগীয় ও বড় জেলা শহরগুলোতে পর্যায়ক্রমে বিআরটি চালু করা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুহলেহ উদ্দিন হাসান। বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহসভাপতি শেখ মেহেদী আহসান, সাবেক সভাপতি ড. আদিল মুহাম্মদ খান, সাবেক সভাপতি ড. গোলাম রহমান, গাজীপুরের হ্যারিটজ অ্যান্ড ডেভেলাপমেন্টের প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো: শাসুল হক, সদস্য মুনতাসির মামুন।



