২০১৬ সালে ছোট একটা আঙুল হেলানোয় পদ্মা ব্যারেজ প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে যায় : পানিসম্পদ মন্ত্রী

পদ্মা প্রজেক্টের কাজ শুরু হয়েছে মাত্র তিন মাস। ইনশা আল্লাহ, বাজেট জুন মাসে পাস হবে এবং আগামী জুলাই থেকে এই মহাপরিকল্পনা ব্যারেজ শুরু হবে, যেখানে বাংলাদেশের তিন ভাগের এক ভাগ অঞ্চল ও যেখানে সাত কোটি মানুষের বসবাস, যেখানে বাংলাদেশের ৩৭ শতাংশ মানুষ সুবিধা পাবে। দেশের এত জনগুরুত্বপূর্ণ এটাকে বলা হয় বাংলাদেশের মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট।

অনলাইন প্রতিবেদক
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি |ইন্টারনেট

পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছন, ২০০২ সাল, যে সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকে এই বিশেষজ্ঞ টিম কাজ শুরু করেছে। ২০১৩ সালে এই বাংলাদেশে একেকটা বিশেষজ্ঞ টিম কাজ করেছিল যে পদ্মা ব্যারেজ কতটুকু ভায়াবল, কতটুকু ফিজিক্যাল। কিন্তু ২০১৬ সালে ছোট একটা আঙুল হেলানোয় এই প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে ইন্টেরিম গভর্মেন্ট এটা আবার নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণ করে। আগের যে বিশেষজ্ঞ দল, তার সাথে নতুনভাবে চিন্তাভাবনা করে কাজ শুরু করে।

তিনি বলেন, পদ্মা প্রজেক্টের কাজ শুরু হয়েছে মাত্র তিন মাস। ইনশা আল্লাহ, বাজেট জুন মাসে পাস হবে এবং আগামী জুলাই থেকে এই মহাপরিকল্পনা ব্যারেজ শুরু হবে, যেখানে বাংলাদেশের তিন ভাগের এক ভাগ অঞ্চল ও যেখানে সাত কোটি মানুষের বসবাস, যেখানে বাংলাদেশের ৩৭ শতাংশ মানুষ সুবিধা পাবে। দেশের এত জনগুরুত্বপূর্ণ এটাকে বলা হয় বাংলাদেশের মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট। প্রজেক্টের সাথে আপনার ও আমার জীবন-জীবিকা, বসবাস, কৃষি, নদীভাঙন রোধ এবং পানিকে রিজার্ভ করে রেখে বর্ষাকালের পর যখন শুষ্ক মৌসুম আসবে, তখন উৎপাদনটাকে কিভাবে দ্বিগুণ-তিনগুণ করা যায়- শুধু খাল খনন দিয়েই তা সম্ভব।

আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ঘোষণাপত্র থেকে বাস্তব পদক্ষেপ ও চ্যালেন্জ এগিয়ে নেয়া শীর্ষক সিটিজেন ডায়লগের অধিবেশনে এ সব কথা বলেন এ্যানি। অধিবেশনে যোগ দেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য, পানি ও মৎস্য বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও।

এ্যানি বলেন, আজকে কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা যখন দেখি বা শুনি, অথবা এর বাইরেও রাজনীতি নিয়ে কেউ কেউ অনেক সময় মন্তব্য করার চেষ্টা করেন; তার কিছু কারণও আছে। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জটা কিন্তু ওই শিক্ষার্থীকে ওভারকাম করেই রাজনৈতিক টেবিলে আসতে হবে। ‘ছাত্র রাজনীতি করব না’ বা ‘করা যাবে না’- এই কথা যদি আমার ও আপনাদের মতো যারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বলেন বা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা বলেন, যদি আমরা বলি যে ‘না, আমি রাজনীতি করব না’ বা ‘রাজনীতি করাটা মানায় না’ বা ‘ছাত্র রাজনীতির এখন আর সেই ভালো পরিবেশে নাই’ এবং এই কথা বলে যদি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখি, তবে ক্ষতিটা কিন্তু ছাত্রেরই হয়। এজন্য ছাত্র রাজনীতি করার মধ্যে একটা দেশের প্রয়োজনীয়তা আছে, পরিবারের প্রয়োজন আছে, সমাজের প্রয়োজন আছে। আমরা হয়তোবা অনেকেই নেতৃত্বে থাকি, সবাই তো সবসময় নেতৃত্বে থাকে না; কিন্তু হাজার হাজার, লাখ লাখ ছাত্র যখন রাজনীতির মাঠে একত্রিত হয় এবং কোনো না কোনো সংগঠনের সাথে জড়িত থাকে, এটাও কিন্তু তার ছাত্র রাজনীতির একটা পরিচিতি।

তিনি বলেন, যিনি কিছু কিছু জায়গায় প্রভাব বিস্তার করেন, তিনি কিন্তু অকারণে গ্রামে-গঞ্জে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যানার ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু যখন এই বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের শিক্ষার্থীরা খুব সচেতনমূলকভাবে একটা রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সেখানে সম্পৃক্ত হতে পারবে, তখন ওই খারাপ লোকটার সেখানে কাজ করার সুযোগ থাকবে না। এজন্যই বাংলাদেশের প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা যারাই পড়ালেখা করি, পড়ালেখা করার ধারাবাহিকতায় ছাত্র রাজনীতি তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, রাজনীতির প্রতি ও ছাত্র রাজনীতির প্রতি যে একটা বিমুখতা, এখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। বের হয়ে এসে অতীতের যে ছাত্র রাজনীতির ভাবমূর্তি, এটাকে রক্ষা করেই ছাত্র রাজনীতিকে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। অনেকে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেন, কালিমালিপ্ত করেন, ওসব অপকর্মগুলো বাদ দিয়ে প্রকৃত ছাত্র রাজনীতির ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আমরা যেন উজ্জ্বল একটা নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে এটা আরো বেশি নৈতিকভাবে আমাদের দায়িত্ব হয়ে পড়েছে।