চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় সংসদে উত্তেজনা

বুধবার (এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁঞা সিটি কলেজের সংঘর্ষের ঘটনায় শিবিরকে ‘গুপ্ত’ হিসেবে উল্লেখ করলে উত্তেজনা দেখা দেয়।

সংসদ প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে ‘গুপ্ত’ শব্দ এবং চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও বাদানুবাদ হয়েছে। সরকারকে নাজেহাল করতে বিরোধী দল চক্রান্ত করছে অভিযোগ করে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁঞা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙ্গুল চুষবে না, বসে থাকবে না।’

এসময় বিরোধী দলীয় নেতা দাঁড়িয়ে বলেন, একজন সংসদ সদস্য যেভাবে হুমকির ভাষায় কথা বললেন, তাতে আমরা ব্যথিত। তিনি কি জনগণকে উসকানি দিচ্ছেন? এগুলো সংসদীয় আচরণ নয়।’

বুধবার (এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁঞা সিটি কলেজের সংঘর্ষের ঘটনায় শিবিরকে ‘গুপ্ত’ হিসেবে উল্লেখ করলে উত্তেজনা দেখা দেয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশনে এ সময় হইচই ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিরোধী দলের বেঞ্চ থেকে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের এমপি এসময় বলেন, আমরা তো দোষীদের বিচারই চেয়েছি। বিচার করলেই তো হয়ে যায়। কারা দোষী সেটা তো প্রকাশ্যেই এসেছে। এসময় চট্টগ্রাম-১৫ আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রামের সিটি কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় অস্ত্রধারীদের ছবি সম্বলিত পত্রিকা সামনে তুলে ধরে বলেন, কারা এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে তা এখানেই প্রমাণ। যদিও এসময় তাদের মাইক ছিল না।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্যের শুরুতে আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁঞা বলেন, ‘সরকারকে নাজেহাল করতে বিরোধী দল চক্রান্ত চালাচ্ছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদে যে আচরণ দেখাচ্ছেন, তাতে মনে হচ্ছে তারা আগামী দিনে বাংলাদেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি করতে দেবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিরোধী দলকে বলে দিতে চাই- আমাদেরকে যারা ভোট দিয়েছে তারা আঙ্গুল চুষবে না। তারা প্রতিবাদ করবে, আমাদের ভোটাররা তাকিয়ে থাকবে না। অতএব সরকারকে সাহায্য করুন, ফ্যাসিবাদের মতো বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করা ঠিক হবে না।’

চট্টগ্রামের একটি ঘটনার সূত্র টেনে ওয়াদুদ ভুঁঞা বলেন, ‘গতকাল চট্টগ্রামের সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর শিবির হামলা করেছে। ছাত্রদলের অপরাধ কী ছিল? তারা শুধু দেয়ালে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখেছে। এই একটি শব্দকে কেন্দ্র করে তারা হামলা করে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হেনেছে। আজকে বিরোধী দলের ভাইয়েরা ক্ষেপে উঠেছেন, তারা সংসদে আমাদের কণ্ঠ চিপে ধরতে চান।’

সরকারদলীয় এই সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এখানে যে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা এক্সপাঞ্জ (কাটা) করা হোক। একজন সংসদ সদস্য যেভাবে হুমকির ভাষায় কথা বললেন, তাতে আমরা ব্যথিত। তিনি কি জনগণকে উসকানি দিচ্ছেন? এগুলো সংসদীয় আচরণ নয়।’

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা করে দেখবো, যদি কোনো অসংসদীয় ভাষা থাকে তবে তা এক্সপাঞ্জ করা হবে। তবে রাজনীতিতে ‘আমরা চুপ করে থাকবো না”-এসব কথা রাজনীতিবিদরা শত বছর ধরে বলে আসছেন। আপনারা বক্তব্যের মাধ্যমে এর জবাব দিন, কিন্তু ডিস্টার্ব করবেন না।’

রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় আরো অংশ নেন, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসন থেকে জামায়াতের সংসদ সদস্য

মোঃ আব্দুল বারী সরদার, বগুড়া-৩ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মহিত তালুকদার, যশোর-৬ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলী, জামালপুর ২ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসন থেকে জামায়াতদলীয় মো. কেরামত আলী, ফেনী-২ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন, সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে জামায়াতদলীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মোঃ রবিউল বাশাল, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান।