সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ৪টি ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ড গঠন

‘এই রিভিউ বোর্ড সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং বিপিপিএ এর কার্যক্রমে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারে না। বিপিপিএ শুধু রিভিউ প্যানেলকে লজিস্টিক বা প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে থাকে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের লোগো
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের লোগো |সংগৃহীত

সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় কোনো দরপত্রদাতা, আবেদনকারী বা পরামর্শককে অযোগ্য ঘোষণার মাধ্যমে ক্রয়কার্যে অংশগ্রহণে বিরত রাখার (ডিবারমেন্ট) সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য সরকার সম্প্রতি চারটি ‘ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ড’ গঠন করেছে।

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর), ২০২৫-এর বিধানবলীতে উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ বা ভিত্তির ওপর নির্ভর করে ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো (পিই) কোনো দরদাতা, সরবরাহকারী, সেবাদাতা বা পরামর্শককে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা বা ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করতে পারে।

পিপিআর, ২০২৫ এর ১৪৯(১১) বিধি অনুযায়ী, ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের এই ডিবারমেন্ট আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ যেকোনো দরদাতা, সরবরাহকারী, সেবাদাতা বা পরামর্শক ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ডের কাছে আপিল দায়ের করতে পারেন। রিভিউ বোর্ড আপিল পর্যালোচনা এবং এ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় ধরনেরে উদ্যোগ।

তিনি বলেন, এই রিভিউ বোর্ড সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং বিপিপিএ এর কার্যক্রমে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারে না। বিপিপিএ শুধু রিভিউ প্যানেলকে লজিস্টিক বা প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে থাকে।

বিপিপিএ-এর কর্মকর্তারা জানান, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এবং পিপিআর, ২০২৫-এর বিধি ১৪৯(১১) ও তফসিল ২১ অনুযায়ী এই ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ডগুলো গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি বোর্ড তিন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত, যাদের সরকারি ক্রয়, আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো এবং ব্যবসা বা বাণিজ্য সংস্থায় (ট্রেড বডি) কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সরকারি ক্রয়ে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা জোরদার করা; পাশাপাশি ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর ভারসাম্য (চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স) নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) ভবনে এসব বোর্ডের কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। বিপিপিএ তাদের স্বাধীন কার্যপরিচালনা সহজতর করতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেবে।

প্রতিটি ডিবারমেন্ট রিভিউ বোর্ডের মেয়াদ হবে গঠনের তারিখ থেকে তিন বছর এবং নতুন বোর্ড গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। বাসস