সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সরকার মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে

‘সমাজের অন্যান্য ছেলেমেয়েরা যেভাবে গড়ে ওঠে, আমরা চাই আমাদের প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েরাও একইভাবে গড়ে উঠুক।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন |ফাইল ছবি

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের একটি গ্রহণযোগ্য স্থানে নিয়ে যাওয়া। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, সমাজের অন্যান্য ছেলেমেয়েরা যেভাবে গড়ে ওঠে, আমরা চাই আমাদের প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েরাও একইভাবে গড়ে উঠুক।

বুধবার (২০ মে) ঢাকার সাভারে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলায় উৎসাহিত করতে ঢাকায় সাভারে ‘বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ ক্রীড়া কমপ্লেক্সে থাকবে বিভিন্ন দেশের মতো আধুনিক স্পোর্টস লার্নিং, মেডিক্যাল ফিজিওথেরাপি, জিমনেশিয়াম, সুইমিং পুল, মসজিদ, ইনডোর ও আউটডোর গেমিং ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়ে, শারীরিক প্রতিবন্ধী, মানসিক প্রতিবন্ধী, সাইকোলজিক্যাল ও ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীসহ প্রায় ১১ ধরনের প্রতিবন্ধী রয়েছে। এই প্রতিবন্ধীদের খেলাধুলার জন্য সারা পৃথিবীতে আলাদা অলিম্পিক হয়, যেটাকে বলা হয় ‘প্যারা অলিম্পিক’।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের অনেক প্রতিবন্ধী আন্তর্জাতিক প্যারা অলিম্পিক খেলায় অংশগ্রহণ করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছে। অনেকে স্বর্ণপদকও বিজয়ী হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে এমনভাবে গড়ে তুলতে, যাতে সমাজে তারা গ্রহণযোগ্য অবস্থানে যেতে পারে, দক্ষতা অর্জন করতে পারে। এজন্য স্কুল, শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পাশাপাশি তাদের শারীরিক গঠন ও খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করার জন্য এই প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রকল্পটি নেয়ার পর মাঝখানে কিছু জটিলতার কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। তবে প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে নির্বাচনী কমিটমেন্ট ছিল, তা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

মন্ত্রী বলেন, ইনডোর ও আউটডোর গেমিং সুযোগ-সুবিধা কিভাবে আরো যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করা যায়, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। কারণ প্রকল্পটি ২০২১ সালে নেয়া হলেও ২০২৬ সাল পর্যন্ত এসে মাত্র ১০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। এর বিভিন্ন কারণ আছে। প্রকল্পটি নেয়ার পরও কার্যক্রম শুরু হয়নি, মাঝখানে কিছু জটিলতার কারণে কাজ বন্ধ ছিল। এখন আবার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা: জাহিদ হোসেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, অ্যাডিশনাল চিফ ইঞ্জিনিয়ারসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে প্রকল্পটি ঘুরে দেখেন। বাসস