তৈরি পোশাকশিল্প কারখানার লাইসেন্স নবায়ন, এসএমই কারখানার বাস্তবতা এবং শিল্পবান্ধব সমাধান বিষয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর এবং বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শ্রম ভবনে সোমবার (১৮ মে) অনুষ্ঠিত এ সভায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত সচিব) মো: ফরহাদ সিদ্দিক এবং বিজিএমইএ নেতারা অংশ নেন।
বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক মো: মতিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সভায় নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক মো: ফরহাদ সিদ্দিককে বিজিএমইএ নেতারা শুভেচ্ছা জানান এবং শিল্পখাতের উন্নয়ন ও শ্রমবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণে তার সফলতা কামনা করেন।
মতবিনিময়ে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, বিজিএমইএ সবসময় শ্রম আইন ও নিরাপত্তা নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
তিনি বলেন, আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল (আরএসসি), নিরাপত্তা কর্মসূচি ‘নিরাপন’, ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান (এনএপি) এবং অন্যান্য কমপ্লায়েন্স কাঠামোর সাথে সমন্বয় রেখে শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে বাস্তবসম্মত সমাধান প্রয়োজন।
তিনি বলেন, লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ হয়ে গেলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে কর্মসংস্থান হ্রাস এবং রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি আরো বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর আলোকে সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ থাকা তৈরি পোশাক কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। বিজিএমইএ এ বিষয়ে সরকারের সাথে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানান।
বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী বলেন, লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়ায় বাস্তবতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, ডাইফের তত্ত্বাবধানে এনএপি মনিটরিংয়ের আওতাভুক্ত প্রায় এক হাজার ৫০০ কারখানার মধ্যে বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামে আনুমানিক ৩০০টি চালু রয়েছে।
তিনি বলেন, শতভাগ সংশোধনমূলক কর্মপরিকল্পনা (সিএপি) বাস্তবায়নের শর্তে নবায়ন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে এসএমই কারখানাগুলোর ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে সব কমপ্লায়েন্স পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি আরো বলেন, যেসব কারখানা গত বছর লাইসেন্স নবায়ন পেয়েছে এবং ইতোমধ্যে রিমেডিয়েশন ও কমপ্লায়েন্স উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে চলতি বছরে শর্তসাপেক্ষে নবায়নের সুযোগ দেয়া প্রয়োজন। একইসাথে এসএমই কারখানাগুলোকে ধাপে ধাপে কমপ্লায়েন্সভিত্তিক শিল্পাঞ্চলে স্থানান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সভায় বিজিএমইএ নেতারা জানান, শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে কারখানা লাইসেন্স নবায়নের মেয়াদ এক বছরের পরিবর্তে পাঁচ বছর করা হলেও মাঠ পর্যায়ে এখনো এক বছরের নবায়ন কার্যকর রয়েছে।
এ বিষয়ে মহাপরিদর্শক মো: ফরহাদ সিদ্দিক জানান, বিষয়টি নিয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ফি ও প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে পাঁচ বছরের নবায়ন কার্যকর করা হবে।
গত বছরে যেসব কারখানা নবায়ন পেয়েছে, তাদের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি বিদ্যমান শিল্পকারখানা সচল রাখতে ডাইফ সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে বলেও উল্লেখ করেন।
সভায় শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের পরিদর্শকদের আরো সমন্বিত ও নির্দেশনা মতো কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাসস



