‘স্বাধীন বাংলা মাদকবিরোধী কল্যাণ সোসাইটি’র ব্যাপারে ডিএনসির সতর্কবার্তা

একইসাথে অধিদফতরের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, অপপ্রচার, চাঁদাবাজি বা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডিএনসি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘স্বাধীন বাংলা মাদকবিরোধী কল্যাণ সোসাইটি’ নামের একটি সংগঠন ও এর সভাপতি সেলিম নিজামীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সতর্কবার্তা দিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানায়, সংগঠনটি তাদের অনুমোদিত বা নিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। তাদের কর্মকাণ্ডের সাথে ডিএনসির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনটি বিভিন্ন প্রচারণামূলক কর্মসূচিতে অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করছে, যা অনৈতিক ও আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। একইসাথে সংগঠনটির আর্থিক উৎস নিয়েও অস্বচ্ছতার অভিযোগ তোলা হয়।

ডিএনসির দাবি, বিভিন্ন সময় সংগঠনটির সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা ডিএনসি কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে মানববন্ধনসহ নান কর্মসূচি পালন করে। পরে সেসব প্রচারণা থেকে কর্মকর্তাদের ছবি সরানোর জন্য অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালায়। এসব কর্মকাণ্ড চাঁদাবাজি ও ভয় দেখানোর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইলের শামিল। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ডিএনসির অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। তবে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় এবং সংগঠনের নেপথ্যের ব্যক্তি সেলিম নিজামীর বিরুদ্ধে অতীত ও সাম্প্রতিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় অনুমোদন দেয়া হয়নি।

এ ছাড়া তারা বিভিন্ন সময়ে মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানোর নামে অধিদফতর থেকে অর্থ সহায়তা চেয়ে ব্যর্থ হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অধিদফতরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ, অনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর অপচেষ্টা করছে।

ডিএনসি উল্লেখ করে, ২০২৪ সালের ২১ মার্চ সমকালে প্রকাশিত ‘তারা সাংবাদিক নন সাংঘাতিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সেলিম নিজামীর বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এছাড়া ২০১৯ সালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি ও ভয় দেখানোর ঘটনায় করা মামলায়ও তার নাম আসে।

ডিএনসি বলছে, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ‘মাদকবিরোধী সংগঠন’ বা ‘সাংবাদিক’ পরিচয় দিয়ে অধিদফতরের নাম, লোগো ও কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের প্রতারক চক্র সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

একইসাথে অধিদফতরের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, অপপ্রচার, চাঁদাবাজি বা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডিএনসি।