দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১,৭৮১ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৫’ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সৌরবিদ্যুৎ
সৌরবিদ্যুৎ |ফাইল ছবি

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

রোববার (৭ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের (নরসিংদী-১) লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে স্থাপিত নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৭৮১ দশমিক ০৯ মেগাওয়াট।

মন্ত্রী জানান, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি-২০২৫’ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এ নীতির আওতায় গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে দেশে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারণ করা যায়।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরো বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির নীতি-২০২৫’ অনুযায়ী বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে পারবেন। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরকারি বিতরণ কোম্পানির অবকাঠামোর মাধ্যমে অথবা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বৃহৎ গ্রাহকদের কাছে সরাসরি বিক্রির সুযোগও থাকবে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে মোট ২৬টি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ১৭২ মেগাওয়াট।

এছাড়া ৬৬৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার আরো ১৫টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্প ২০২৯ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সরকার ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর অঙ্গীকার থেকেই এ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র : বাসস