আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি কোরবানির পশুর মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একই সাথে চোরাই বা অবৈধ পথে বর্ডার পার হয়ে কোনো গবাদিপশু যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ঘোষণাপত্র থেকে বাস্তব পদক্ষেপ ও চ্যালেঞ্জ এগিয়ে নেয়া শীর্ষক সিটিজেন ডায়লগের অধিবেশনে এ সব কথা বলেন টুকু। অধিবেশনে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য, পানি ও মৎস্য বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন।
মৎস্য খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের মোট ইলিশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ আমরাই উৎপাদন করে থাকি। জাটকা নিধন রোধ এবং সংরক্ষণে সরকার সুনির্দিষ্ট নীতি অবলম্বন করায় দিন দিন ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। বর্তমানে ২০ কোটির কাছাকাছি জনসংখ্যার এই দেশে মাছের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন। আমরা চিংড়িসহ প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টন মাছ বিদেশে রফতানি করছি। বিগত সরকারের উদাসীনতায় চিংড়ি উৎপাদন কমলেও বর্তমান সরকার ভেনামি জাতের চিংড়িসহ বিভিন্ন নতুন প্রজাতি নিয়ে কাজ করছে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।
সরকারের মেয়াদ ও উন্নয়ন পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ৯২ দিন। আমরা মাত্র কাজ শুরু করেছি। কাজের মূল্যায়ন আরো দুই বা তিন বছর পর করা সমীচীন হবে। ইতোমধ্যে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেয়ার মতো দৃশ্যমান পদক্ষেপগুলো শুরু হয়েছে। নদী ও খালের নাব্যতা রক্ষায় শুধু খাল খননই নয়, নদী খননের কাজও চলমান রয়েছে।’
বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে দলটির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি সবচেয়ে উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী সব আন্দোলনেই বিএনপি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কখনোই ফ্যাসিবাদের চরিত্র ধারণ করেনি।’
আসন্ন কোরবানি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চাহিদা যেখানে এক কোটি দুই লাখ পশুর, সেখানে বর্তমানে এক কোটি ২৩ লাখ ৩৪ হাজার গবাদিপশু মজুদ রয়েছে। অর্থাৎ আমাদের চাহিদার চেয়েও ২২ লাখের বেশি পশু উদ্বৃত্ত আছে। কাজেই পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ উপায়ে পশু আনার কোনো প্রয়োজন নেই।’
পবিত্র কোরবানিকে হালাল উপায়ে সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘চোরাই পথে আসা অবৈধ পশু দিয়ে কোরবানি কতটুকু গ্রহণযোগ্য, সে বিষয়ে ক্রেতা ও সাধারণ সমাজকে সচেতন হতে হবে।’
দেশের মিষ্টি পানির মাছ ও দেশী গরুর গোশত অত্যন্ত সুস্বাদু উল্লেখ করে ভবিষ্যতে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র পাশাপাশি ‘গরু-ভাতে বাঙালি’ হিসেবে বৈশ্বিক বাজারে এই খাত থেকে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। কাপ্তাই লেকে ৬০ টন মাছ অবমুক্তকরণ ও হালদা নদীর পোনা সংরক্ষণের কথা উল্লেখ করে দেশের স্বার্থে সবাইকে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।



