যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, ‘বাংলাদেশের শ্রমবাজারে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের চাহিদার মধ্যে একটি স্পষ্ট স্কিল গ্যাপ বিদ্যমান রয়েছে।’
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: গোলাম রছুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
লিখিত প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়, এটি সত্য কিনা যে, পরিবর্তনশীল শিল্পখাতের (যেমন আইটি, আধুনিক কৃষি ও ম্যানুফ্যাকচারিং) চাহিদার সাথে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমন্বয়হীনতার কারণে উচ্চশিক্ষিত যুবকদের একটি বড় অংশ দীর্ঘমেয়াদে বেকারত্বের শিকার হচ্ছে।
জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম শিল্পখাতের বর্তমান চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে উচ্চশিক্ষিত অনেক যুবক প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ও কারিগরি দক্ষতার অভাবে উপযুক্ত চাকরি পেতে বিলম্বিত হয় বা বেকার থাকে। তবে বেকারত্বের পেছনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি, বিনিয়োগের ঘাটতি, কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো অন্যান্য কারণও দায়ী।’
সংসদ সদস্য মো: গোলাম রছুলের অপর এক প্রশ্ন- ‘বর্তমানে দেশের শিক্ষিত ও কর্মক্ষম যুবসমাজের মধ্যে বেকারত্বের হার বৃদ্ধির মূল কারণগুলো এবং এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে সরকারের বর্তমান বিশেষ কর্মপরিকল্পনা কী? এমন প্রশ্নর জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক বলেন, ‘বেকার যুবদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়াধীন যুব উন্নয়ন অধিদফতরের আওতায় দেশের সব জেলার বেকার যুবকদের উদ্বুদ্ধকরণ, প্রশিক্ষণদান, প্রশিক্ষণোত্তর আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্বাবলম্বীকরণ, যুবঋণ প্রদান, দারিদ্র্যমোচন ইত্যাদি কর্মসূচি চালু রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারাদেশের বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থানের জন্য ১৮০ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিম্নবর্ণিত প্রকল্প/কর্মসূচি প্রণয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ১. দেশের সকল মহানগরীতে কর্মহীন যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ২. দেশের সকল মহানগরীতে কর্মহীন যুবদের মোবাইল সার্ভিসিং ও ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ৩. দেশের সকল মহানগরীতে কর্মহীন যুবদের কেয়ারগিভিং ও বিদেশী ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সকল জেলার বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।


