শিক্ষামন্ত্রীর সাথে জামায়াতের শিক্ষা বিভাগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

‘বিগত ১৬ বছরে অনেক শিক্ষককে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থন করার কারণে অন্যায়ভাবে ফ্যাসিস্ট সরকার চাকরিচ্যুত বা বরখাস্ত করেছিল। তাদের কেউ ২, ৪, ৫ এমনকি ১৬ বছর পর্যন্ত বকেয়া বেতন-ভাতা পায়নি।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষামন্ত্রীর সাথে জামায়াতের শিক্ষা বিভাগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়
শিক্ষামন্ত্রীর সাথে জামায়াতের শিক্ষা বিভাগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় |নয়া দিগন্ত

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা বিভাগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের নেতৃবৃন্দ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে শিক্ষামন্ত্রীর অফিসে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের সমস্যা সমাধানে নিম্নলিখিত দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করেন—

(১) শিক্ষক, কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ করতে হবে।

(২) জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত শতভাগ উৎসব বোনাস, সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে হবে।

(৩) অবসর ভাতা ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে শিক্ষক ও কর্মচারীদের হাতে তুলে দিতে হবে।

(৪) সচল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (ইবতেদায়ি মাদরাসাসহ) এমপিওভুক্তির গেজেট ঘোষণা করে সেপ্টেম্বর মাস থেকে বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের সদস্য সচিব ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি শিক্ষক ও কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত মেনে নেয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের ২০ দফা দাবি সম্বলিত দাবিনামা শিক্ষামন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের সদস্য ও বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক এ বি এম ফজুলল করীম বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরে অনেক শিক্ষককে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থন করার কারণে অন্যায়ভাবে ফ্যাসিস্ট সরকার চাকরিচ্যুত বা বরখাস্ত করেছিল। তাদের কেউ ২, ৪, ৫ এমনকি ১৬ বছর পর্যন্ত বকেয়া বেতন-ভাতা পায়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন, কেউ অবসরগ্রহণ করেছেন, আবার কেউ চাকরিতে বহাল হয়েছেন। কিন্তু অনেকেই তাদের সাসপেন্ড বা বরখাস্তের সময়ের কোনো বকেয়া বেতন-ভাতা এখনো পায়নি। উক্ত বকেয়া বেতন-ভাতা অতিদ্রুত দেয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’ একইসাথে তিনি সৎ ও যোগ্য শিক্ষকদের সমন্বয়ে অবিলম্বে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেন।

শিক্ষক নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনার পর শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘শিক্ষক, কর্মচারীরদের চাকরি জাতীয়করণের কাজ চলমান রয়েছে এবং উৎসব ভাতা আরো ১০ শতাংশ বর্ধিত করা হয়েছে। অবসর সুবিধা ভাতা ও কল্যাণ ফান্ডের অর্থ যাতে দ্রুত সময়ে পেতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’ এছাড়া তিনি উত্থাপিত সকল দাবিগুলো পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দেন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. এম কোরবান আলী, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. উমার আলী, অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্লা এমপি, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক মো: রবিউল ইসলাম, কারিগরি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল আজিজ, মাসুদ সাঈদী এমপি, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল প্রমুখ।