নয়া দিগন্তে খবর প্রকাশ

সাময়িক বরখাস্ত খামারবাড়ির আলোচিত সেই পিডি

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে পার্টনার প্রকল্পের সাবেক পিডি এবং বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (এলআর) মো: মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রধান ফটক
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রধান ফটক |সংগৃহীত

ছুটির দিনে সারাদেশ থেকে খামারবাড়ি ডেকে টাকা তুলছে প্রকল্প অফিস' শিরোনামে গত ৩ জানুয়ারি দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে খবর প্রকাশিত । সারাদেশ থেকে জেলা, উপজেলা, আঞ্চলিক কৃষি অফিসের হিসাব রক্ষক, হর্টিকালচার সেন্টারের সংশ্লিষ্টদের খামারবাড়িতে ডেকে ২ শতাংশ করে টাকা আদায় করেন কৃষির সবচেয়ে বড় প্রকল্প পার্টনারের পিডি (পিসি) মিজানুর রহমান। ওই ঘটনার পরই প্রকল্পের হিসাব রক্ষক মানিক পাটোয়ারিকে বরখাস্ত করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। একইসঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি পিডির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ পায়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে পার্টনার প্রকল্পের সাবেক পিডি এবং বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (এলআর) মো: মিজানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয, ডিএই'র পার্টনার প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মো: মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে 'ছুটির দিনে সারাদেশ থেকে খামারবাড়ি ডেকে টাকা তুলছে প্রকল্প অফিস' শিরোনামে গত ৩ জানুয়ারি দৈনিক নয়া দিগন্ত' পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রচারিত সংবাদের আলোকে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের নিমিত্ত ৩ (তিন) সদস্য গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করেন। দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে 'দুর্নীতি ও অনিয়ম' এবং 'কর্তব্যে অবহেলার' অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কারণ দর্শানোর জন্য বলা হলে তিনি জবাব দাখিল করেন যা কর্তৃপক্ষের নিকট সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি। এমতাবস্থায়, মো: মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আনীত 'দুর্নীতি ও অনিয়ম" এবং "কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা আছে মর্মে প্রতীয়মান হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ১২ (১) এবং সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩৯(১) অনুযায়ি তাকে দায়িত্ব হতে বিরত রাখার আবশ্যকতা ও তদন্তকার্যে প্রভাব বিস্তারের আশংকা বিবেচনায় চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

এ আদেশ জারির তারিখ হতে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।