ববি হাজ্জাজ

আগামী প্রজন্মকে বিশ্বমানের নেতৃত্বে গড়তে কারিকুলাম সংস্কার

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমি শুধু গার্ল গাইডসদের মধ্যে নয়, আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতাদের মাঝে আছি। আমরা এমন একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা শুধু বাংলাদেশে নয়, বরং বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
গার্ল গাইডস অনুষ্ঠানে শিশুদের সম্মাননা প্রদান
গার্ল গাইডস অনুষ্ঠানে শিশুদের সম্মাননা প্রদান |সংগৃহীত

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং নেতৃত্ব, নাগরিক দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে বিশ্বমানের নেতৃত্বে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার কারিকুলামে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ে ‘হলদে পাখি নীল কমল অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী প্রজন্মকে দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সরকার দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল চালুর কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে।’

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমি শুধু গার্ল গাইডসদের মধ্যে নয়, আগামী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতাদের মাঝে আছি। আমরা এমন একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা শুধু বাংলাদেশে নয়, বরং বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে।’

নতুন কারিকুলামের রূপরেখা ও শিশুদের মনস্তত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘নতুন কারিকুলামে শিশুদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবজীবনভিত্তিক দক্ষতা শেখানো হবে। শিক্ষার্থীরা শিখবে কিভাবে ভালো নাগরিক হতে হয় এবং নিজের স্কুল, ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হয় ও সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘শিশুদের বয়স মূলত আনন্দের মাধ্যমে শেখার। অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা বড় বড় বই চাপিয়ে দেয়ার সময় নয়। নতুন কারিকুলাম এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে শিশুরা গল্প, সৃজনশীলতা ও আনন্দের মাধ্যমে সহজে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।’

অনুষ্ঠানে নীলকমল অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত হলদে পাখির সদস্যদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনন্য অর্জন দেশের অন্য শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে মনোনীত মোট ৫৭ জন হলদে পাখি সদস্যকে মর্যাদাপূর্ণ ‘নীল কমল অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার কাজী জেবুন্নেছা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় নেতা, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক এবং পুরস্কারজয়ী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস