দুর্নীতি মামলা

ঢাকা ব্যাংকের সাবেক ৪ কর্মকর্তার কারাদণ্ড

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ঢাকা ব্যাংকের সাবেক কেন্দ্রীয় হিসাব বিভাগ ও ইনভেস্টমেন্ট বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু মোহাম্মদ সাঈদ খান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার প্রবীর কুমার ভৌমিক ও শওকত আলী।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়
আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয় |সংগৃহীত

প্রায় দেড় আগে বিশ্বাসভঙ্গ এবং জাল জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চার কর্মকর্তাকে পৃথক তিনটি ধারায় ২০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।

তিন ধারার সাজা একত্রে চলবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়। সেক্ষেত্রে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ঢাকা ব্যাংকের সাবেক কেন্দ্রীয় হিসাব বিভাগ ও ইনভেস্টমেন্ট বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু মোহাম্মদ সাঈদ খান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার প্রবীর কুমার ভৌমিক ও শওকত আলী।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১-র বিচারক মুহা: হাসানুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধে দণ্ডবিধি ৪০৯ ধারায় প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড আদেশ দেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরো ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে।

জাল-জালিয়াতের অভিযোগে প্রত্যেককে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরো তিন মাসের কারাভোগ করতে হবে।

অন্যদিকে, অর্থ আত্মসাতের দায়ে তাদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরো তিন মাসের কারাভোগ করতে হবে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজীব দে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলায় অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের ৪ নভেম্বর মোহাম্মদ ইউসূফ আলী নামে এক ব্যক্তি ঢাকা ব্যাংকে একটি হিসাব খোলেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর হয়। এর বিপরীতে তার কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের এক হাজার শেয়ার এবং মেঘনা সিমেন্ট লিমিটেডের সাড়ে সাত হাজার শেয়ার জামানত হিসেবে রাখা হয়।

পরে ইউসূফ আলীর আবেদনে ঋণসীমা ১৭ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪ লাখ টাকা করা হয়। পরবর্তী সময়ে জামানত হিসেবে রাখা শেয়ার যাচাই করে জানা যায়, সেগুলো ভুয়া। তিনি প্রতারণা করে ভুয়া ও জাল শেয়ার ব্যাংকে জমা করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

আসামি শওকত আলী ব্যাংক হিসাব খোলার সময় ইউসূফ আলীকে শনাক্ত করেন এবং অসৎ উদ্দেশ্যে ওই কাজে তাকে সহায়তা করে পরস্পর যোগসাজশে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সিরাজুল হক ২০০৮ সালের ৩১ মে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০২৩ সালের ২২ অগাস্ট চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক কামিয়াব আফতাহি-উন-নবী।

গত বছরের ১৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচারকালে ১৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন। বাসস