কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক এমপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: মাহবুবুল আলম হানিফ এবং তার স্ত্রী ফৌজিয়া আলমের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার দুদকের পৃথক দু’টি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো: রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মাহবুবুল আলম হানিফের আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি পাবলিক সার্ভেন্ট ও সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে অপরাধমূলক অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ২৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিকানা অর্জন, দখলে রাখা এবং ১৮টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৪৩৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা জমা ও ৪৩৩ কোটি ১২ লাখ টাকা উত্তোলনসহ মোট ৮৬৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।
এছাড়া মানিলন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ-সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন ও আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি মাহবুবুল আলম হানিফের (ভিত্তি বছর থেকে সর্বশেষ দাখিলকৃত পর্যন্ত) সব আয়কর নথি জব্দ করার নিমিত্তে আদালতের আদেশ প্রয়োজন।
ফৌজিয়া আলমের আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি ফৌজিয়া আলম (৫৩) এবং মো: মাহবুবুল আলম হানিফ (৬৬) একে অন্যের সহায়তায় পারস্পরিক যোগসাজশে সংগতিবিহীন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিকানা অর্জন, দখলে রাখা এবং ১৬টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১৭ কোটি ৫ লাখ টাকা জমা ও ১৬ কোটি ৮ লাখ টাকা উত্তোলনসহ সর্বমোট ৩৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।
তিনি ও তার স্বামী মো: মাহবুবুল আলম হানিফ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি থাকাকালীন মানিলন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ-সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন ও আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি ফৌজিয়ার (ভিত্তি বছর থেকে সর্বশেষ দাখিলকৃত পর্যন্ত) সব আয়কর নথি জব্দ করার নিমিত্তে আদালতের আদেশ প্রয়োজন। সূত্র : বাসস



