ক্রিকেট বোর্ডে অস্থিরতা শেষ হচ্ছে না সহসাই। যখন মনে হচ্ছিল, হয়তো সবকিছু ঠিক হয়ে গিয়েছে, তখনই এলো নতুন মারপ্যাঁচ। তামিম ইকবালদের অর্থাৎ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ১১ সদস্য বিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটিকে হাইকোর্ট দেখালেন সাত আইনজীবী। ওই কমিটি গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে করলেন রিট দায়ের।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ১১ সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এ রিট পিটিশন দায়ের করা হয়।
এদিন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: গোলাম কিবরিয়াসহ সাতজন আইনজীবী এ রিট আবেদন দাখিল করেন।
রিটে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এডহক কমিটিকে অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
যেখানে তামিম ইকবালসহ বিবাদী করা হয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালককে।
রিটে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং নির্ধারিত মেয়াদে বিধিমোতাবেক দায়িত্ব পালন করছিল।
কিন্তু গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক স্মারক নম্বর ৩৪.০৩.০০০০.০০৪.০৪.০২৩.২৬-৩২ মারফত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারা প্রয়োগ করে নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত করে ১১ সদস্যের এডহক কমিটি গঠন করেন।
আবেদনকারীদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে যে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮-এর ২১ ধারা অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি গঠন কেবল বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন কোনো কমিটি যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বা স্বার্থবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করলে সম্ভব।
কিন্তু বিসিবির নির্বাচিত কমিটির বিরুদ্ধে এমন কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও আইনের এই ধারার অপপ্রয়োগ ও অপব্যবহার করে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
রিটে আরো বলা হয়, নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ অবসান না হওয়া সত্ত্বেও অ্যাডহক কমিটি গঠন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও ক্রীড়া সংস্থার স্বায়ত্তশাসনকে ক্ষুণ্ণ করে এবং সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।
রিট আবেদনকারীরা হাইকোর্টের কাছে রুল নিশি জারি করে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ ও শুনানি চলাকালীন বিতর্কিত স্মারকের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন।



