হামের টিকা পেয়েছে ১৯ লাখ ৫৩ হাজার শিশু

নিশ্চিতভাবে হামে ৩৬ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১৮১ জনের মৃত্যু

১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে হাম শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৪৪৩ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৬০৬ জন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৬০৬ জন
হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৬০৬ জন |ফাইল ছবি

হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সরকার আজ রোববার পর্যন্ত দুই দফায় দেশের ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৩ জন শিশুকে টিকা দিয়েছে।

আগামীকাল সোমবার থেকে তৃতীয় দফায় দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। আগামী চার সপ্তাহ (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতিত) কেন্দ্রগুলাতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা এ টিকা দেয়া হবে। ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় টিকা দেয়া হবে।

হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে গত ৫ এপ্রিল প্রথম দফায় ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। এসব উপজেলায় ২১ লাখ ৮০ হাজার ১০৫ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চলমান এই কর্মসূচির আওতায় ৫ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত উপজেলাগুলোতে ১৪ লাখ ৮৭ হাজার ১৯২ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বরিশাল বিভাগে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৬৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৭৮ জন, ঢাকা বিভাগে ৬ লাখ ১৩৪ জন, খুলনা বিভাগে ৭৪ হাজার ৫৮৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৮৯ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৩ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেয়া হয়েছে।

এদিকে, দ্বিতীয় দফায় গত ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ গুরুত্বপূর্ণ ৪টি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ) একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম শুরু করে সরকার। সরকার এই চার সিটি করপোরেশনে ৯ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩৮ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

১২ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত চার সিটিতে ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৬৫১ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯০২ জন, বরিশাল সিটি করপোরেশনে ১৬ হাজার ৪৪ জন এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে ১৬ হাজার ৮৯৫ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে।

সরকার সঠিক সময়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বাংলাদেশে হামের প্রকোপ কিছুটা কমেছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০ এপ্রিল সোমবার থেকে দেশব্যাপী টিকা কার্যক্রম শুরু করলে এটা আরো কমে আসবে। আশা করি, আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

টিকার কোনো ঘাটতি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সব ধরনের টিকার পর্যাপ্ত মজুত আছে। গ্রাম এলাকায় ও আমাদের হাতে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন মজুত আছে, তা দিয়ে আগামী জুন মাস পর্যন্ত নির্বিঘ্নে আমরা ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারব।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাম প্রতিরোধে টিকার কার্যকারিতা অনেক বেশি। সাধারণত ক্যাম্পেইন শুরুর দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রাদুর্ভাব কমতে দেখা যায়। ঠিকমতো টিকা কার্যক্রম পরিচালিত হলে প্রাদুর্ভাব থাকবে না, আশা করা যায়। মহামারি মোকাবেলায় সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তারা।

ইপিআই থেকে জানানো হয়, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী দেশের সব শিশুকে এক ডোজ হাম-রুবেলার টিকা দেয়া হচ্ছে। আগে হাম-রুবেলার টিকা পেয়ে থাকলেও ওই বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ টিকা দেয়া হবে।

টিকা দেয়া হবে নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন, ইবতেদায়ি মাদরাসা, মক্তব, এতিমখানা ও শিশু আশ্রমে। এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত পাঁচ বছরের কম বয়সী ছাত্র-ছাত্রীকে টিকা দেয়া হবে। এছাড়া যেসব শিশু স্কুলে যায় না কিংবা স্কুলে টিকা নেয়নি, তারা যে এলাকায় থাকে, তাদেরকে সেখানকার নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রে টিকা দেয়া হবে।

ক্যাম্পেইন চলাকালে প্রতিটি উপজেলার হাসপাতাল, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের হাসপাতাল এবং সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র পরিচালিত হবে। ক্যাম্পেইন চলার সময় এসব কেন্দ্র থেকে রুটিন টিকাও দেয়া যাবে।

ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও দুর্গম এলাকার জন্য অতিরিক্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে ইপিআই। তাদের মধ্যে আছে দোকান বা বাজার, কারখানা, চালকলের মতো স্থানে মায়েদের সাথে থাকা শিশু, বেদে বহরের শিশু, পথশিশু, হাসপাতালে মায়েদের সাথে থাকা শিশু, জেলখানায় মায়েদের সাথে থাকা শিশু, বস্তির শিশু। এ অতিরিক্ত কেন্দ্রগুলোয় টিকাগ্রহীতার সুবিধামতো সময়ে (বিকেলে বা রাতে) টিকা দেয়া হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে হাম শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৪৪৩ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৬০৬ জন। এ সময় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১২ হাজার ৩৯৬ জন। এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৬ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র : বাসস