দেশে কিডনি রোগে আক্রান্তের হার বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি। লেনসেটে প্রকাশিত ২০২৩ সালের তথ্য অনুসারে কিডনি রোগে বৈশ্বিক হার প্রতি ১০ জন প্রাপ্ত বয়স্কের একজন। বাংলাদেশে দ্বিগুণেরও বেশি প্রাপ্ত বয়স্ক কিডনি রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশে কিডনি আক্রান্তের হার বেশি থাকার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, অসচেতনতা এবং প্রাথমিক দিকে শনাক্ত না হওয়া এবং শনাক্ত হয়ে থাকে কিডনিতে কোনো না কোনো জটিলতা দেখা দিলেই। অনেক ক্ষেত্রে রোগটি প্রথম দিকে ধরা পড়ে না এবং রোগের অবস্থা গুরুতর হওয়ার পর শনাক্ত হয়। এ কারণে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব তথ্য প্রদান করেন।
‘প্রেভেল্যান্স অফ ক্রোনিক কিডনি ডিজিজ ইন বাংলাদেশ : অ্যা সিস্টেমেটিক রিভিউ অ্যান্ড মেটা এনালাইসিস’ শীর্ষক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় প্রতি চারজনের মধ্যে একজন কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত যা বৈশ্বিক গড়ের হার থেকে বেশি। প্রতি বছর প্রায় ৩৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ মানুষ কিডনি বিকল হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ (এনসিডিসি) কিডনি রোগ দ্রুত শনাক্ত, নির্ণয় এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি জাতীয় চিকিৎসা প্রটোকল তৈরি করেছে। এই চিকিৎসা প্রটোকলটি দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় কিডনি রোগ শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গুণগত নির্দেশনা দেবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
প্রটোকলটি সায়েন্টিফিক ওয়ার্কিং গ্রুপের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও আইসিডিডিআর,বি যৌথভাবে তৈরি করেছে। নতুন এই প্রটোকলের লক্ষ্য হলো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মধ্যেই কিডনি রোগের পরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা যুক্ত করা। এই ব্যবস্থায় কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা (সিএইচসিপি) কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের প্রাথমিক পরীক্ষা করবেন এবং সন্দেহজনক রোগীদের রেফার করবেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসকেরা নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে রোগ নির্ণয়, ঝুঁকি নির্ধারণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা করবেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, কিডনি রোগ অনেক সময় নীরবে বাড়তে থাকে। ফলে অনেক রোগী শেষ পর্যায়ে যাওয়ার আগে বুঝতেই পারেন না যে তাদের কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ অথবা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে পানির লবণাক্ততা, অতিরিক্ত গরমে কাজ করা এবং পানির মানের অবনতিও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতাল : কিডনি দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালে কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল মাসব্যাপী বিনামূল্যে মেডিক্যাল চেকআপ ক্যাম্পের উদ্বোধন করেছে। ক্যাম্পে রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন দুই হাজার টাকায় সাতটি পরীক্ষা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ পরীক্ষাগুলো হলো- সিবিসি, লিপিড প্রোফাইল, ফাস্টিং ব্লাড সুগার, এইচবি১সি, এসজিপিটি, ইউরিনআর/এম/ই এবং সিরাম ক্রিয়েটিনিন।



