বাংলাদেশের জনসংখ্যার ২০ ভাগ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির রোগে ভুগছেন

সাইজে ছোট, কাজে বড় থাইরয়েড গ্রন্থি। থাইরয়েড সমস্যা, জটিলতা ও রোগ দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা করাতে পারলে রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির নানা রোগে ভুগছেন। প্রতি ৭ জন রোগীর ৫ জন নারী, আক্রান্ত ব্যক্তির ৬০ শতাংশই চিকিৎসা সেবার আওতায় নেই।

আগামী ২৫ মে ‘বিশ্ব থাইরয়েড দিবস ও আন্তর্জাতিক থাইরয়েড সচেতনতা সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব কথা জানান। বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি ও নিনমাসের পরিচালক অধ্যাপক ডা: এ কে এম ফজলুল বারীর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউ’র ভিসি অধ্যাপক ডা: এফ এম সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাইজে ছোট, কাজে বড় থাইরয়েড গ্রন্থি। থাইরয়েড সমস্যা, জটিলতা ও রোগ দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা করাতে পারলে রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সুস্থ, স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব কিন্তু বিলম্ব হলে মানবদেহের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যায়, প্রাণহানিরও শঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো- দেশের কোটি কোটি মানুষ থাইরয়েডের সমস্যা, জটিলতা ও রোগে আক্রান্ত হলেও তারা জানেন না যে তাদের থাইরয়েডজনিত সমস্যা বা রোগ রয়েছে।

বিএমইউ ভিসি অধ্যাপক ডা: এফ এম সিদ্দিকী বলেন, থাইরয়েড মানবদেহের একটি ভাইটাল অর্গান। থাইরয়েডজনিত সমস্যা ও রোগ শনাক্তকরণে এবং চিকিৎসায় নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও অ্যালায়েড সায়েন্সেস বিষয়গুলো বিরাট অবদান রাখছে।

বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি ও নিনমাসের পরিচালক অধ্যাপক ডা: এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের হরমোন টিথ্রি, টিফোর (টি৩, টি৪) নিঃসরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা শরীরের বিপাক হার, হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, ওজন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। কিন্তু এই ছোট্ট গ্রন্থিতে জটিলতা দেখা দিলে শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘মা-বাবার থাইরয়েডজনিত সমস্যা থাকলে সন্তানের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ থাইরয়েড গ্রন্থির নানা রোগে ভুগছে। প্রতি ৭ জন রোগীর ৫ জনই মহিলা। আক্রান্ত ব্যক্তির ৬০ শতাংশই চিকিৎসা সেবার আওতায় নেই। প্রতি ২ হাজার ৩০০ শিশুর মধ্যে ১ জন জন্মগত থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছে। তবে রোগের শুরুতে থাইরয়েড রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগের সফল চিকিৎসা সম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা: মো: মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, থাইরয়েড সমস্যা ও রোগ সম্পর্কে গণমানুষকে জানাতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি নিতে হবে এবং এই বিষয়টি প্রাথমিক হেলথ কেয়ারেও অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। সাথে সাথে থাইরয়েডজনিত রোগ ও সমস্যার চিকিৎসার পাশাপাশি গবেষণা কর্মকাণ্ডও চালিয়ে যেতে হবে।

বিএমইউ’র নিনমাসে অধ্যাপক ডা: কামালউদ্দিন আহমেদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা: ফওজিয়া মোসলেম, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: এম এ করিম।

প্যানেল এক্সপার্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএমইউ’র ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: সৈয়দ আকরাম হোসেন, বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা: ফরিদুল আলম, বিএমইউর নাক কান গলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: কামরুল হাসান তরফদার, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ইনমাস’র পরিচালক অধ্যাপক ডা: শংকর কুমার বিশ্বাস প্রমুখ।

সেমিনারে ‘জানুন, পরীক্ষা করুন, জয় করুন’ এবং ‘আপনার থাইরয়েড, আপনার রক্ষক’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের এন্ডোক্রাইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা: এম সাইফুদ্দিন।

এছাড়াও ‘স্ট্যান্ডারাইজড রিপোর্টিং ফরম্যাট অফ থাইরয়েড আল্ট্রাসাউন্ড : এ অ্যাপ্রোচ ফর থাইরয়েড নোডিউল ইভালুয়েশন’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সহ-সভাপতি ও ইনমাস সোহরাওয়ার্দী’র পরিচালক অধ্যাপক ডা: জীনাত জাবীন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন থাইরয়েড সোসাইটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা: নাসরীন সুলতানা।

এদিকে, বিএমইউ’র নিনমাস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে থাইরয়েড রোগ সংক্রান্ত গবেষণাদির প্রাপ্ত ফলাফলের সারমর্ম সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সহ-সভাপতি ও বিএমইউ’র নাক কান গলা বিভাগের অধ্যাপক ডা: মো: আব্দুস সাত্তার, বিএমইউ’র মনোরোগ বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা: সালাউদ্দিন কাউসার বিপ্লব, এন্ডোক্রাইন সোসাইটির প্রেসিডেন্ট (ইলেক্ট) ও বিএমইউ’র সহযোগী অধ্যাপক ডা: শাহজাদা সেলিম, বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক ডা: জেসমীন ফেরদৌস, বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির পাবলিকেশন সেক্রেটারি সহযোগী অধ্যাপক ডা: পাপড়ি মুৎসুদ্দী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সূত্র : বাসস