দেশের চোখের স্বাস্থ্যসেবাকে আরো সহজলভ্য ও কার্যকর করতে অপটোমেট্রি পেশাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে এখনো অপটোমেট্রি পেশা স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিশ্বের বেশিভাগ দেশে মানুষের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, চশমার পাওয়ার নির্ধারণ এবং প্রাথমিক চোখের সেবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন প্রশিক্ষিত অপটোমেট্রিস্টরা।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট) আয়োজিত গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে অপটোমেট্রি পেশা গড়ে না ওঠায় গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ, বিশেষ করে স্কুলশিক্ষার্থী ও বয়স্করা, সামান্য একটি চশমার অভাবে স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারেন না। অথচ প্রয়োজনীয় চশমা ব্যবহার করলে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা এবং কর্মক্ষমতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র এক ডলারের একটি রিডিং গ্লাস বা পড়ার চশমা কর্মক্ষম বয়সী মানুষের উৎপাদনশীলতা ও আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষেরা এই চশমা ব্যবহার করলে দ্রুত পড়তে, সেলাইয়ের মতো সূক্ষ্ম কাজ করতে এবং অন্যান্য পেশাগত দায়িত্ব আরো দক্ষতার সাথে পালন করতে পারেন। এর ফলে তাদের ব্যক্তিগত আয়ও বাড়ে।
এম এ মুহিত বলেন, বাংলাদেশের লাখো মানুষ সাধারণ চোখের সমস্যায় ভুগলেও এর সমাধানে সব সময় চিকিৎসকের প্রয়োজন হয় না, অপটোমেট্রিরা এটি সমাধান করতে পারে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, স্বাস্থ্যকর্মী সঙ্কট মোকাবিলায় চিকিৎসক ও নার্সের পাশাপাশি অপটোমেট্রিস্টসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদেরও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্যকর্মী কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
একইসাথে শহর ও গ্রামের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী বণ্টনের বৈষম্য দূর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের সব অঞ্চলে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সমান উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জন সম্ভব হবে না। তাই জনবল পরিকল্পনায় অপটোমেট্রি ও অন্যান্য সহযোগী স্বাস্থ্য পেশাকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়ার সময় এসেছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় গত ১৩ মে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৪ অনুযায়ী সরকার এ স্বীকৃতি দেয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আইনের প্রথম তপশিলের ৪(খ) ধারার আওতায় অপটোমেট্রি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং এক বছর মেয়াদি ইন্টার্নশিপ সম্পন্নকারীদের ‘অপটোমেট্রিস্ট প্র্যাকটিশনার’ হিসেবে স্বীকৃতি ও নিবন্ধনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুমোদন করা হয়েছে। অপটোমেট্রি বিষয়ে প্রশিক্ষণ বর্তমানে সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অপথালমোলজি এবং রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ইত্তেহাদ কলেজ অব হেলথ সায়েন্স দিনাজপুর ও সাইক কলেজ অব হেলথ সায়েন্সে রাজশাহী এ কোর্স চালু রয়েছে।



