দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর এবার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উম্মুক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার। শ্রমিক শোষণ ও দালালের দৌরাত্ম্য রুখতে এবার যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। অভিবাসন ব্যয়ের পুরো ভার থাকছে নিয়োগকর্তার ওপর।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
শ্রম বাজার বন্ধ হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানানের সাথে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনের এক ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশই দ্রুততম সময়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করতে একমত পোষণ করেছে। তাছাড়া সিন্ডিকেট প্রথা বিলুপ্ত করতে ও তারা একমত পোষণ করেন।
অতীতের বিশৃঙ্খলা ও দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধে এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় অভিবাসন ও নিয়োগের যাবতীয় খরচ এখন কর্মীর পরিবর্তে সরাসরি নিয়োগকর্তাকে বহন করতে হবে। ফলে আগের চেয়ে অভিবাসন ব্যয় ও খরচ কমার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বর্তমানে কমবেশি এক মিলিয়ন বাংলাদেশী কর্মী বৈধভাবে কর্মরত আছেন, যা দেশটির মোট বিদেশি শ্রমশক্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। দেশটিতে বাংলাদেশ কর্মী সংখ্যার দিকে দিয়ে প্রথমস্থানে রয়েছে। মূলত নির্মাণ শিল্প, কলকারখানা এবং কৃষি খামারে বাংলাদেশীদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় আগামী এক বছরে দেশটিতে আরো ৩০ থেকে ৪০ হাজার কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী শুক্রবার কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, ‘প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান ও বিদ্যমান সংকট দূর করতে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সকল দাবি ও প্রস্তাব অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কাজের প্রতিফলন ঘটানো এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।’
নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
এসময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানান, প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘দেশটিতে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পড়ে অবৈধ হয়ে বাংলাদেশীদের বৈধ করণের আহ্বানও জানানো হয়েছে, আমরা যে কোনো মূল্যে সিন্ডিকেট ও শোষণ মুক্ত করতে উভয়দেশের সরকার একটি ঐক্যমতে পৌঁছেছে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে দীর্ঘ ১৬ বছর অব্যবস্থাপনার ফলে সৃষ্ট সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব না হলেও সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী শ্রমিকদের মানবাধিকার সুরক্ষা, উন্নত কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করাকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’



