ফ্রান্সের প্যারিসের অদূরে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে আদর্শ মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান এমসি ইনস্টিটিউট ফ্রান্সের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য শিক্ষা সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবুজ গাছপালা, বিস্তীর্ণ খোলা মাঠ এবং নির্মল পরিবেশে আয়োজিত এ শিক্ষা সফরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
রোববার (৭ জুন) লা কুরনভ পার্কে এই শিক্ষা সফর অনুষ্ঠিত হয়।
প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত এ শিক্ষা সফর সকাল থেকেই প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম, খেলাধুলা, কুইজ প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং প্রীতিভোজের আয়োজন অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। শিক্ষার্থীরা আনন্দের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের সুযোগ পায়।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা বদরুল বিন হারুন বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত বিকাশ শুধু শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা সফরের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা আদর্শ, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে সমাজের জন্য কল্যাণকর মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক।’
প্রধান উপদেষ্টা শরীফ আল মোমীন বলেন, ‘প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের মাঝে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা অব্যাহত রাখতে এমসি ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষা সফরের মতো কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।’
সিনিয়র সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি শিক্ষণীয়ও। তারা এখানে একে অপরের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পেয়েছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ও ফ্রান্স বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন এফবিজেএ-এর সমন্বয়ক মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন বলেন, ‘প্রবাসে আমাদের নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শেকড়, ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত রাখার জন্য এমন উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমসি ইনস্টিটিউট ফ্রান্স যে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকরাও শিক্ষা সফরের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, সন্তানদের মানসিক বিকাশ, সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। তারা ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের মাঝেও ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস। শিক্ষার্থী ফাহমী আলম জানায়, ‘সারাদিন বন্ধুদের সাথে আনন্দ করেছি, খেলাধুলা করেছি এবং অনেক নতুন কিছু শিখেছি। এমন আয়োজন আমাদের জন্য খুবই আনন্দের।’
শিক্ষার্থী জয়নব ফেরদৌস বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার কাছে অনেক বিশেষ। সবাই মিলে একসাথে সময় কাটাতে পেরে খুব ভালো লেগেছে।’ আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাইমুন জানায়, ‘পার্কের সুন্দর পরিবেশে শিক্ষকদের সাথে আলোচনা এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে অনেক কিছু শিখেছি।’ আসফিয়া জান্নাত বলেন, ‘সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। এমন দিন বারবার ফিরে আসুক, এটাই চাই।’
দিনব্যাপী শিক্ষা, আনন্দ ও সৌহার্দ্যের আবহে অনুষ্ঠিত এ শিক্ষা সফর শেষে অংশগ্রহণকারীদের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি মাওলানা বদরুল বিন হারুন উপস্থিত সকল অতিথি, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সকলের সহযোগিতা ও ভালোবাসা নিয়ে এমসি ইনস্টিটিউট ফ্রান্স ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আরো বৃহত্তর পরিসরে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।’
প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে আয়োজিত এ শিক্ষা সফর অংশগ্রহণকারীদের কাছে এক স্মরণীয় ও অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও প্রিন্সিপাল মাওলানা বদরুল বিন হারুনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মামুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন এমসি ইনস্টিটিউট ফ্রান্সের প্রধান উপদেষ্টা শরীফ আল মোমীন, সিনিয়র সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান, প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ও ফ্রান্স বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, কবি খান বাহাদুর আতিকুল ইসলাম, সদস্য কবি তোফায়েল আহমেদ জয়নুল, সদস্য হাবিবুর রহমান, বিশিষ্ট উদ্যোক্তা আজ ফার্নিচারেরে সত্বাধীকারী এম ডি হেলাল আহমদ, কবি আব্দুল আজিজ সেলিম, জালাল আহমদ ও আব্দুর রহমান।
অভিভাবকদের মধ্যে ছিলেন জালালাবাদ ইউনিভার্সিটির কলেজের সাবেক প্রভাষক মোহাম্মদ খফরুল ইসলাম, মুশাররফ চৌধুরী, মোহাম্মদ ইনু মিয়া, এম ডি বদরুল ইসলাম, হাবিবা কাওছার, মুয়াল্লিমা নাসিমা বেগম, সৌয়দা সাদিয়া এছাড়া অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আব্দুর রহমান, মুতালিব চৌধুরী, মাহবুবুর রহমান ও নাসিমা আক্তার।



