জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার আগে ক্যাম্পাসে অভিযুক্ত যুবকের রহস্যজনক সাড়ে ৪ ঘণ্টা

প্রক্টর বলেন, আমরা এই ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। দোষী ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও নির্বাচিত সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে একটি নজির সৃষ্টি করা হোক।

আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
জাবিতে সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত যুবকের গতিবিধি
জাবিতে সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্ত যুবকের গতিবিধি |নয়া দিগন্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে রাত ১১টা ১৩ মিনিটে অপরাধ সংঘটনের আগ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন অভিযুক্ত যুবক।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রাশিদুল আলম।

সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের সন্দেহজনক গতিবিধি সংবাদ সম্মেলনে প্রক্টর সিসিটিভি ফুটেজের বর্ণনা দিয়ে জানান, ঘটনার দিনে অভিযুক্ত ব্যক্তি সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। ৭টা ২ মিনিটে বিশমাইল মোড় অতিক্রম করে জাবি স্কুল ও কলেজের সামনে দিয়ে ব্যাচেলর কোয়ার্টারের মোড় হয়ে ৭টা ১৫ মিনিটে প্রান্তিক গেটে আসে। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে মহিলা ক্লাবের সামনে দিয়ে চৌরঙ্গীর দিকে যায়। রাত ৭টা ৩১ মিনিটে পদ্মপুকুরের উত্তরের মাটির রাস্তায় প্রবেশ করে বের হয়ে আবার একই রাস্তায় যান তিনি।

রাত ৮টার দিকে চৌরঙ্গী মোড় হয়ে মেডিকেলের সামনে দিয়ে ৮টা ২৬ মিনিটে প্রথমবারের মতো ঘটনাস্থলে যান ওই ব্যক্তি। সেখান থেকে শহীদ সালাম-বরকত হলের মোড়ে গিয়ে ৮টা ৩৩ মিনিটে আবার ট্রান্সপোর্টে ফিরে আসেন। রাত ৯টায় আ. ফ. ম. কামালউদ্দীন হলের সামনে, ৯টা ৩০ মিনিটে পুনরায় পুরাতন ট্রান্সপোর্টে এবং রাত সাড়ে ৯টা থেকে সোয়া ১০টার মধ্যে দুইবার ঘটনাস্থলের সামনে দিয়ে যাতায়াত করে।

প্রক্টর আরো জানান, রাত ১০টা ২০ মিনিটে ছাত্রী হলগুলোর রাস্তা, শহীদ মিনার ও পুরনো প্রশাসনিক ভবন হয়ে ১০টা ৫০ মিনিটে আবার ফিরে যায়। এরপর রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে ঘটনাস্থলের দিকে গিয়ে ট্রান্সপোর্টে ফেরে এবং ১১টা ০১ মিনিটে সালাম-বরকত হলের দিকে যায়। সর্বশেষ ফেরার পথে রাত ১১টা ১৩ মিনিটে ফজিলাতুন্নেসা হল সংলগ্ন রাস্তার পাশে ওই ঘটনা ঘটায়। তিনি কীভাবে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়েছেন, তা জানতে আরো সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে জানান প্রক্টর।

প্রক্টর বলেন, আমরা এই ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। দোষী ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও নির্বাচিত সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে একটি নজির সৃষ্টি করা হোক।

এছাড়াও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের ১৪ দফা সিদ্ধান্ত কথা জানান তিনি। সেগুলো হলো, নিরাপত্তা ঘাটতি মেটাতে দ্রুততম সময়ে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন। তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানাতে একটি হটলাইন নম্বর চালু। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা। বহিরাগত প্রবেশে কড়াকড়ি, গেটের লগবুকে এন্ট্রি এবং ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিবেশীদের জন্য পাসের ব্যবস্থা। নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক। ক্যাম্পাসের দোকান কর্মচারীদের পরিচয়পত্র বহন এবং মালিক ও কর্মচারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এস্টেট শাখায় জমাদান। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের নির্মাণ শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের তথ্য নিরাপত্তা শাখায় জমা প্রদান। ক্যাম্পাসের সকল ভাসমান (ভ্রাম্যমাণ) দোকান উচ্ছেদ। হলের দোকান কর্মচারীদের তথ্য নিয়ে আইসিটি সেল কর্তৃক একটি ডাটাবেজ তৈরি। গেটগুলোতে প্রহরী বৃদ্ধি, এক মাসের মধ্যে নতুন নারী-পুরুষ প্রহরী নিয়োগ এবং ১০০ আনসার সদস্য চেয়ে ইউজিসির কাছে আবেদন। সীমানা প্রাচীরের ভাঙা অংশ ও অননুমোদিত প্রবেশপথ বন্ধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা। কমিটির মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন। আল-বেরুনী হলের (টিনশেড) এক্সটেনশন ভবনটি অবিলম্বে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা। বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধে আগামী সিন্ডিকেট সভায় একটি স্থায়ী কমিটি গঠন।