শিশু রামিসা হত্যার প্রতিবাদে রাবিতে ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন

সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক রুমানা আক্তার বলেন, ‘এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে এদেশে কিভাবে আমরা আমাদের সন্তানদের মানুষ করবো, কিভাবে বড় করবো, কিভাবে রাখবো তাদের, এদেশের জন্য কিভাবে কাজ করবো। আমরা যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, দেশের সমাজকর্মী আমরা সমাজের জন্য কাজ করি, দেশের জন্য কাজ করি যেখানে আমার শিশু নিরাপদ না, আমি নিরাপদ না সেখানে কিভাবে দেশের কল্যাণে কাজ করবো।’

রাবি প্রতিনিধি

Location :

Rajshahi
রাবিতে ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন
রাবিতে ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন |নয়া দিগন্ত

শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড, নারী-শিশু নির্যাতন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) মানববন্ধন করেছে ছাত্রীসংস্থা রাবি শাখা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা রামিসা হত্যার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচারের দাবি করেন। একইসাথে নারী-শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ক্রমবর্ধমান ঘটনা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মানববন্ধনে সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক রুমানা আক্তার বলেন, ‘এভাবে যদি চলতে থাকে তাহলে এদেশে কিভাবে আমরা আমাদের সন্তানদের মানুষ করবো, কিভাবে বড় করবো, কিভাবে রাখবো তাদের, এদেশের জন্য কিভাবে কাজ করবো। আমরা যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, দেশের সমাজকর্মী আমরা সমাজের জন্য কাজ করি, দেশের জন্য কাজ করি যেখানে আমার শিশু নিরাপদ না, আমি নিরাপদ না সেখানে কিভাবে দেশের কল্যাণে কাজ করবো।’

তিনি বলেন, এই ধর্ষণকারীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। জনসম্মুখে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া উচিত। যে সকল আইনজীবী এই ধর্ষকদের পক্ষে আইনি লড়াই করেন তাদের ধিক্কার জানাই। তাদের ঘরে মা-বোন নেই, তাদের কি পেটের ভাত হয় না, এসব ধর্ষণকারীদের পক্ষ হয়ে কেন লড়তে হবে? সে সকল আইনজীবীদের আমি ধিক্কার জানাই। যারা ধর্ষণকারী আছে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হোক। মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমেই জনগনকে জানিয়ে দেয়া উচিত যে একজন ধর্ষকের শাস্তি এমনই হওয়া উচিত। পরিশেষে আজকের এই মানববন্ধন সফল হোক।

মন্নুজান হলের ভিপি সুমাইয়া জাহান বলেন, ‘সাত বছরের একটি শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমরা কোন সমাজে বসবাস করছি, এ সকল ঘটনার শুধু আজকের নয় এর আগেও আছিয়াসহ অনেক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। আজ থেকে ১০ বছর আগেও তনুকেও এভাবে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। আমাদের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা কোথায়! সরকার আমাদের নারী এবং শিশুদের নিরাপত্তা দেয়ার কথা বলছে এবং সরকার কার্ড দেয়ার কথা বলেছে। আমরা ঘরের বাহিরে গেলে নিরাপত্তা পাচ্ছি না, আমরা সরকারের কাছে নিরাপত্তা চেয়েও বারবার ব্যর্থ হচ্ছি।’

শাখা ছাত্রীসংস্থার সভানেত্রী ও রাকসুর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সাইয়িদা হাফসা বলেন, ‘একজন শিশু যে সাত বছর মাত্র বয়স এই সাত বছরের শিশু যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, সে হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সময় শিশু এবং নারীরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, হত্যার শিকার হচ্ছে তারই একটা বড় উদাহরণ হলো শিশু রামিসা হত্যা। আজ এই যে নৃশংস একটা হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো রামিসা। আমরা এই হত্যাকাণ্ডে সুস্পষ্ট একটা বিচার চাই।

তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত এই ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে কিন্তু এর কোনো বিচার হচ্ছে না। ধর্ষকদের নামে মামলা হচ্ছে গ্রেফতার হচ্ছে কিন্তু যে শাস্তিটা নিশ্চিত করবে তা হচ্ছে না। এ বিচারহীনতা মূলত এই ধর্ষণের পিছনে মূল কারণ। নৈতিকতা বিবর্জিত শিক্ষা ব্যবস্থা দেশে আইনের শাসন না থাকাও ধর্ষণের মূল কারণ। আমরা রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানাই, এই ধর্ষকদের যারা চিহ্নিত হয়েছে তাদের দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করে।

মানববন্ধনে নারী শিক্ষার্থীরাসহ ছাত্রীসংস্থার বিভিন্ন হল, অনুষদ ও বিভাগের নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।