হল সুপারের সিদ্ধান্তে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

দীর্ঘদিন প্রচলিত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা হঠাৎ বন্ধ করে দেয়া হয়। মোটরের সুইচ খুলে দিয়ে ট্যাঙ্কের পানি ব্যবহারে বাধ্য করা হচ্ছে।

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি

Location :

Dinajpur
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় |নয়া দিগন্ত

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) বিজয় ২৪ হলে দায়িত্ব নেয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই হল সুপার প্রফেসর ড. নিজাম উদ্দীনের একাধিক সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া এবং শিক্ষার্থীদের নোংরা ট্যাঙ্কের পানি পান করতে বাধ্য করায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন প্রচলিত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা হঠাৎ বন্ধ করে দেয়া হয়। মোটরের সুইচ খুলে দিয়ে ট্যাঙ্কের পানি ব্যবহারে বাধ্য করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্দ শিক্ষার্থীরা । তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা অগ্রাহ্য করছে।

শিক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করেন, কুকুরের উপদ্রবে একাধিক শিক্ষার্থী আক্রমণের শিকার হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সিট বরাদ্দ নিয়েও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। চলমান থিসিস বা মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদেরও হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই নতুন শিক্ষার্থী উঠানোর চেষ্টায় সিট খালি করার চাপ সৃষ্টি করা কতটা যৌক্তিক এ প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

এছাড়া হলের ছাদে তালা দেয়ার কারণে কাপড় শুকানো, খোলা পরিবেশে সময় কাটানো কিংবা পরিবারের সাথে কথা বলার সুযোগ সীমিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আপত্তি উপেক্ষা করে বারবার তালা দেয়ার ফলে হলের সম্পদেরও ক্ষতি হয়েছে। বড় ডাস্টবিন সরিয়ে ছোট বালতি সদৃশ ডাস্টবিন বসানোয় কুকুর-বিড়াল সহজেই ময়লা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে বিভিন্ন ফ্লোরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে।

অভিযোগের বিষয়ে বিজয় ২৪ হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. মো: নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘মোটরের সুইচ বন্ধ করা হয়নি বরং লিমিটেশন আনা হয়েছে। প্রতিটি ফ্লোরে একাধিক মোটর সংযোগ থাকায় আমরা পানির অপচয় লক্ষ্য করেছি। পানির অপচয় রোধে যেখানে প্রতিটি ফ্লোরে একাধিক মোটর ছিল সেখানে কমিয়ে আনা হয়েছে।’

হলে অবস্থানরত একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, তারা শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে নয়। তবে মতামত উপেক্ষা করে একের পর এক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে অসন্তোষ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। তারা চায় স্যার শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে সমাধান খুঁজে বের করে দ্রুত পদক্ষেপ নিক।