নতুন ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) নিয়োগকে কেন্দ্র করে টানা ষষ্ঠ দিনের আন্দোলন এবং টানা তিন দিনের ব্লকেড কর্মসূচিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে গাজীপুরস্থ ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
চলমান আন্দোলন, সংঘর্ষ, মামলা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও উত্তেজনায় ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সম্প্রতি সরকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামে। তাদের দাবি, ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ জ্যেষ্ঠ ও যোগ্য শিক্ষকদের মধ্য থেকেই ভিসি নিয়োগ দিতে হবে।
গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি, সড়ক অবরোধ, ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন এবং ব্লকেড কর্মসূচি পালন করে আসছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেন। ‘ডুয়েট থেকে ভিসি চাই’, ‘বহিরাগত ভিসি মানি না’ এবং ‘ডুয়েটের স্বার্থে অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব চাই’ এমন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।
দুপুরের দিকে নবনিযুক্ত ভিসি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা ভেতর দিক থেকে প্রধান ফটকের মুখে কাঠ, পুরনো ভাঙ্গা ভবনের দরজা-জানালা, পানির ট্যাংক ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা স্থাপন করে অবস্থান নেন। পরে বিকেল ৩টার দিকে আন্দোলনকারীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
পরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আমান উল্লাহ ও হাসানুর রহমান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দাবিকে যেভাবে সংঘাতে রূপ দিয়ে শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত করা হয়েছে, সেই দাবি থেকে আমরা পিছপা হব না। বহিরাগত ভিসি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে ডুয়েটের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই ভিসি নিয়োগ দিতে হবে।’
শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও স্বতঃস্ফূর্ত। তারা অভিযোগ করেন, গত রোববার শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রদল ও বহিরাগতদের নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ১৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো: খসরু মিয়া বলেন, ‘ডুয়েটের ভেতর থেকে ভিসি নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষক সমাজের রেজুলেশন রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার রয়েছে। একইসাথে বহিরাগত হস্তক্ষেপ, সহিংসতা ও হামলার ঘটনায় শিক্ষক সমাজ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।’
শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববারের সংঘর্ষে দুই শিক্ষক ও অন্তত ১৮ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা।
গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে পুলিশ ক্যাম্পাসের বাইরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ইউএনও কার্যালয়ে যোগদানপত্রে স্বাক্ষরের পর নবনিযুক্ত ভিসি শিক্ষার্থীদের বাধার কারণে মঙ্গলবারও ক্যাম্পাসে আসেননি বা ঢুকতে পারেননি। এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার রাতে এ প্রতিবেদন পাঠানো পর্যন্ত ব্লকেড ও শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত ছিল এবং ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল।



