নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) রসায়ন বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা শারীরিকভাবে হেনস্থার (র্যাগিং) শিকার হয়েছেন।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) নিজেদের শ্রেণিকক্ষে তারা একই বিভাগের ১৮ ও ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দ্বারা র্যাগিংয়ের শিকার হন।
রসায়ন বিভাগের ২০তম ব্যাচের এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, সকালে একটি ফুটবল প্র্যাকটিস ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ওই ম্যাচে আমাদের ব্যাচ থেকে কেবল একজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপুরের লাঞ্চ ব্রেকে ১৮ ও ১৯ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের ক্লাসে প্রবেশ করে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চায়।
তিনি বলেন, এ সময় আমাদের ব্যাচের তীর্থ নামে এক শিক্ষার্থীকে সামনে এনে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। পরে আরো দুই শিক্ষার্থীকে ডেকে এনে তাদের কাঁধের ওপর ভর দিয়ে তীর্থকে দীর্ঘ সময় পা তুলে রাখতে বাধ্য করা হয়। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে তাকে এ অবস্থায় রাখা হয়, যা শারীরিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর ছিল।
তিনি আরো বলেন, রসায়ন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের (১৮ ব্যাচ) শিক্ষার্থী মেহরাজ হোসেন ভুক্তভোগীদের গালাগাল করে হুমকি দেন। এ সময় তিনি একজন শিক্ষার্থীকে এক হাতে অন্যজনের পা তুলে রাখতে বাধ্য করেন।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বলেন, অভিযুক্ত মেহরাজ ক্লাসে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে রাখা এবং ছাত্রীদের সামনে অবমাননাকর বাক্য ব্যবহার করেন। এ সময় তার সাথে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদেরও অপমানকর আচরণ করতে বাধ্য করেন।
তিনি বলেন, অভিযুক্তদের নিজেদের মধ্যে আরো কঠোর শাস্তির বিষয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। এ সময় ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সময় অভিযুক্ত মেহরাজ ১৯ তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকে বলেন, ২০ ব্যাচকে ধরে ধরে থাপ্পড় দিবি। ভিসি, প্রো-ভিসিসহ প্রশাসনিক বিষয় আমি দেখব।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত মেহরাজ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের ফুটবল ম্যাচ আছে। এ জন্য সবাই প্রাকটিসে আসলেও ২০ ব্যাচের কিছু শিক্ষার্থী আসেনি। তারা কেন আসেনি, সেই বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছি, আর কালকে সবাইকে থাকতে হবে বলেছি।
তিনি বলেন, একটু বকা দিয়েই বলেছি আরকি। তীর্থ নামে যে ছেলেটা ছিল, তার পায়ে ব্যাথা ছিল। সেই কারণে দুইজনকে ডেকে ওদের কাঁধে ভর দিয়ে দাঁড়াতে বলেছি। এখন হঠাৎ একটা ছেলে এমন পোস্ট করেছে।
এ বিষয়ে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, র্যাগিংয়ের বিষয়ে আমরা উভয় পক্ষকে মিটিংয়ে ডেকেছি। তারা তাদের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন এবং পরবর্তী সময়ে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে বিভাগীয় যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার সম্মতি দিয়েছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, র্যাগিংয়ের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে সমাধান হয়েছে।



