জাবিতে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করার প্রতিবাদে জাকসুর বিক্ষোভ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর ১০০ ঘণ্টা পার হলেও অভিযুক্তকে গ্রেফতারে ব্যর্থতার প্রতিবাদে জাকসুর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Location :

Savar
জাবিতে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করার প্রতিবাদে জাকসুর বিক্ষোভ
জাবিতে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করার প্রতিবাদে জাকসুর বিক্ষোভ |নয়া দিগন্ত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর ১০০ ঘণ্টা পার হলেও অভিযুক্তকে গ্রেফতারে ব্যর্থতার প্রতিবাদে জাকসুর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ২০ মিনিট সময় ধরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।

সোমবার (১৮ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন প্রধান ফটকে (ডেইরি গেইট) অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি চলাকালীন মহাসড়ক অবরোধ করা হলে রাস্তার দুই লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

অবস্থান কর্মসূচিতে জাকসুর যুগ্ম সম্পাদক সম্পাদক ফেরদৌস আল হাসানের পরিচালনায় বক্তারা বলেন, ক্যাম্পাসে ধর্ষণচেষ্টার মতো একটা ঘৃণ্য ঘটনা ঘটার পর ১০০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো অপরাধীকে গ্রেফতার কিংবা বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন। এর দ্বারা অরক্ষিত ক্যাম্পাস ও প্রশাসনের ভঙ্গুর অবস্থার চিত্র প্রকাশিত হয়েছে।

জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, গতকালকে যখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রক্টর স্যারকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয় যে, ১০০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও কেন এখনও পর্যন্ত অপরাধী শনাক্ত করা যায়নি? তিনি এর উত্তরে এক হাস্যকর যুক্তি দাঁড় করিয়ে বলেন, এখনো পর্যাপ্ত তথ্য বা ক্লু পাওয়া যায়নি।

জিএস মাজহার বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি এ ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীকে আইনের আওতায় না আনা হয়, তবে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেয়া হবে।

ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, আমরা জানতাম আমাদের ক্যাম্পাস বাংলাদেশের সবচেয়ে নিরাপদ ক্যাম্পাস। কিন্তু এখন আমাদের সেই ভুল ভেঙে গেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আজ লজ্জিত হয়েছে। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা নিরাপদে চলাচল করবে এবং কোনো নিপীড়ক কাউকে নির্যাতন করতে পারবে না।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি শিক্ষার্থীরা যৌক্তিক আন্দোলনকে একটি বিশেষ গোষ্ঠী ক্যাম্পাসকে অশান্ত করতে চাচ্ছে, নিজেদের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য। আমরা বলতে চাই, কেউ যদি ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে চায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আমরা রুখে দাঁড়াবো।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় বহিরাগত কর্তৃক জাবির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে ১৩ মে রাতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে ১৬ মে প্রক্টর অফিসে তালা দেয় আন্দোলনকারী এবং ১৭ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দেয়ার ঘটনা ঘটে।