বুটেক্সে ‘ক্যারিয়ার-রিযক-কনফিউশন’ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

সেমিনারে বক্তারা ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্যারিয়ার গঠন, রিযিকের ধারণা, জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং পেশাগত জীবনে নৈতিকতা ও দ্বীনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।

শেফাক মাহমুদ, বুটেক্স

Location :

Dhaka
ক্যারিয়ার-রিযক-কনফিউশন বিষয়ক সেমিনার
ক্যারিয়ার-রিযক-কনফিউশন বিষয়ক সেমিনার |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ‘ক্যারিয়ার রিযিক কনফিউশন’ শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে বুটেক্স দাওয়াহ কমিউনিটি।

সোমবার (১৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার রুমে দুপুর ২টার দিকে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের সাবেক শিক্ষার্থী ‘দ্যা মেসেজ পডকাস্ট’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও ওয়ান উম্মাহ বিডির চিফ মার্কেটিং অফিসার তামিম মৃধা এবং দাঈ ও উদ্যোক্তা আহমেদ আরিফিন। আরো উপস্থিত ছিলেন উত্তর বেগুনবাড়ি জামে মসজিদের খতিব তারেক জামিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।

সেমিনারে বক্তারা ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্যারিয়ার গঠন, রিযিকের ধারণা, জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ এবং পেশাগত জীবনে নৈতিকতা ও দ্বীনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও আলোচনা করা হয় একজন মুসলিমের ক্যারিয়ার শুধু অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয় বরং তা হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম। মানুষের রিযিক মহান আল্লাহ পূর্বনির্ধারিত করে রেখেছেন। তাই রিযিকের ভয় বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় না ভুগে সততা, পরিশ্রম ও তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে হালাল উপার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মাওলানা তারেক জামিল রিযিকের প্রকারভেদ, তাওয়াক্কুল, সবর ও জীবনে বারাকাহ লাভের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও নেক আমলের মাধ্যমে রিযিকে বরকত আসে, আর কিছু গুনাহ রিযিক কমিয়ে দেয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ দুনিয়াবী জীবন নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকলেও আখেরাতই মানুষের প্রকৃত ও চিরস্থায়ী জীবন।’

আহমেদ আরিফিন জানান, হলিউডের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি থেকে দ্বীনের পথে ফিরে আসার যাত্রা তার জন্য সহজ ছিল না।

তিনি বলেন ‘আল্লাহ হেদায়েত দিয়েছেন বলেই আমি ফিরে আসতে পেরেছি।’

এছাড়াও তিনি রিযিকের বিভিন্ন স্তর, রিযিক বৃদ্ধির উপায় ও দ্বীনের দাওয়াতের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, শুধু অ্যাকাডেমিক ফলাফল নয়, যোগাযোগ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ ও সময় ব্যবস্থাপনাও সফল ক্যারিয়ার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমরা অনেক সময় রিযিক নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করি, অথচ রিযিকের মালিক আল্লাহ। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা উচিত।

তামিম মৃধা বলেন, ‘একটি উমরাহ থেকেই আমার দ্বীনের পথে ফিরে আসার শুরু’।

তিনি জানান, কীভাবে আল্লাহ ধীরে ধীরে তার জন্য দ্বীনের পথ সহজ করে দিয়েছেন এবং হারাম চাকরি থেকে বের করে হালাল উপার্জনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আগের চাকরি ছাড়ার পর আমি প্রায় আট মাস বেকার ছিলাম, কিন্তু আল্লাহ কখনো আমাকে অসহায় রাখেননি। দ্বীনের পথে থাকলে আল্লাহই রিযিকের ব্যবস্থা করে দেন।’

শিক্ষার্থীদের কাছে উক্ত সেমিনারের বিষয়ে জানতে চাইলে, ৪৯তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাদাত সালেহীন রাফি বলেন, ‘আজকের সেমিনারে ক্যারিয়ার ও রিজিকের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে গভীর আলোচনা শুনেছি। এর মাধ্যমে রিজিক সম্পর্কে আমার অনেক ধারণা পরিষ্কার হয়েছে। একই সাথে ক্যারিয়ারের সাথে রিজিকের প্রকৃত সম্পর্ক কোথায়—সেটিও বক্তাদের বক্তব্য থেকে উপলব্ধি করতে পেরেছি। আমি আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সাথেও বিষয়গুলোকে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করেছি। ফলে আমার জ্ঞান যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও এখন আমার কাছে আরো স্পষ্ট হয়েছে।’

সেমিনারে বুটেক্স দাওয়াহ কমিউনিটির মডারেটর অধ্যাপক ড. ইমদাদ সরকার বলেন, ‘বুটেক্সে এ ধরনের আয়োজন আরো বেশি হওয়া প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুনিয়াবী জ্ঞান অর্জনের নানা সুযোগ থাকলেও দ্বীনি জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে সীমিত। বিশেষ করে ক্যারিয়ার বিষয়টি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ খুব শিগগিরই তারা বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করবে। কর্মজীবনে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ, অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপ থাকে। তাই ক্যারিয়ার যেন হতাশা বা দুশ্চিন্তার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সে জন্য ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়গুলো বোঝা এবং নিজেকে প্রস্তুত করা জরুরি।’

বুটেক্স দাওয়াহ কমিউনিটি সহ-প্রতিষ্ঠাতা রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘আজকের ওয়ার্কশপটি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে তামিম মৃধা ও আহমেদ আরিফিন তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা, ক্যারিয়ার জার্নি এবং দ্বীনের পথে ফিরে আসার গল্প শেয়ার করেছেন। বক্তারা রিযিক, ক্যারিয়ার ও জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেন, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে। আমি সকল অতিথি, ভলান্টিয়ার ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

সেমিনারের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার, উচ্চশিক্ষা, চাকরি, রিযিক ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং বক্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করেন।

আয়োজকরা জানায়, শিক্ষার্থীদের নৈতিক, আত্মিক ও পেশাগত উন্নয়নের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।